বাংলা

রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ (ফেব্রুয়ারী 16, 1873 – আগস্ট 17, 1908) একজন সার্বিয় লেখক, সাংবাদিক এবং শিক্ষক ছিলেন এবং তাঁর ব্যঙ্গাত্মক ছোট গল্পগুলির জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন।

রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ মধ্য সার্বিয়ার অবশিষ্টে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, স্থানীয় শিক্ষানবিশ ও উদ্যোক্তা মিলোস ডোমানোভিচের পুত্র, এবং পার্সিদা সুকিচ, পাভেল সুকিচ বংশধর যিনি প্রথম ও দ্বিতীয় সার্বিয়ান বিদ্রোহের অন্যতম সামরিক কমান্ডার ছিলেন। তিনি তার ছোটবেলা ক্রেগুয়েভ্যাটসের কাছে ইয়ারুশিটসে নামের এক গ্রামে কাঠিয়ে ছিলেন, যেখানে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ক্রেগুয়েভ্যাটসে মিডল স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পরে বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন অনুষদে স্নাতক হন, যেখানে তিনি সার্বিয়ান ভাষা এবং ইতিহাস অধ্যয়ন করেন।

1895 সালে, ডোমানোভিচ তাঁর প্রথম চাকরির নিযুক্তি আদেশ পান, সার্বিয়ার দক্ষিণে পিরোটের একটি শিক্ষণ পদ, এই জায়গাটি তখন সম্প্রতি অটোমান সাম্রাজ্য থেকে মুক্তি পেয়েছিল। পিরোটে, তাঁর দেখা হয় ইয়াশা প্রোডানোভিচের সাথে (1867–1948), তিনি একজন শিক্ষক ও সমাজ সেবি ছিলেন, ইনি ডোমানোভিচ কে তাঁর রাজনৈতিক মতামত গঠনে সহায়তা করেছিলেন। সেখানে তাঁর ভবিষ্যত স্ত্রী, নাটালিয়া রেকেটিচের (1875–1939) সাথেও তাঁর দেখা হয়, যাঁর নাম শ্রেনস্কি কার্লোভতসির একজন দরিদ্র শিক্ষিকা ছিলেন, ডোমানোভিচের ক্ষুদ্র এবং অশান্তিপূর্ণ জীবনে ইনি তাঁকে সমর্থন করেন এবং তাঁদের তিনটি সন্তান হয়।

যেহেতু তিনি বিরোধী পিপলস র্যাডিক্যাল পার্টিতে যোগদান করেছিলেন, তিনি ওব্রেনোভিচ রাজবংশের বিরোধিতায় জড়িয়ে পরেন এবং তাঁকে 1895 সালের শেষের দিকে বৃণে স্থানান্তরিত করা হয় তারপর 1896 সালে লেস্কোভ্যাটসে স্থানান্তরিত করা হয়। ডোমানোভিচের লেখালেখির কর্মজীবনও শিক্ষকতা করার সময় শুরু হয়, 1895 সালে তাঁর প্রথম বাস্তববাদী ছোট গল্প প্রকাশ হয়। 1898 সালে সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্যে আসার পরে তাঁকে এবং তাঁর শ্রী কে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, এবং ডোমানোভিচ তাঁর পরিবার কে নিয়ে বেলগ্রেডে চলে যান।

বেলগ্রেডে তিনি সাপ্তাহিক জার্নাল “স্টার” এবং বিরোধী রাজনৈতিক পত্রিকা “ইকো” পত্রিকায় সহ লেখকদের সাথে কাজ শুরু করেছিলেন। এই সময় তিনি “দানব” এবং “আবেগের বিলুপ্তি”-র মতো ব্যঙ্গাত্মক কাহিনী রচনা ও প্রকাশ শুরু করেছিলেন। রাদ্বয়ের তাঁর খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছান তাঁর বিখ্যাত গল্প “নেতা” (1901) এবং “স্ট্রডিয়া” (1902) লিখে, এই গল্পগুলিতে তিনি শাসন ব্যবস্থার ভণ্ডামির প্রাকাশ্য় সমালোচনা করেছিলেন।

1903 সালে অভ্যুত্থানের পর আলেক্সান্ডার ওব্রেনোভিচের শাসন কাল শেষ হওয়ার পর, তাঁর জনপ্রিয়তার উচ্চতায়, ডোমানোভিচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লেখকের পদ পেয়েছিলেন এবং নতুন সরকার তাঁকে জার্মানি পাঠান এক বছরের জন্য বিশেষজ্ঞতা অর্জনের জন্য, তিনি সেই সময়টি মিউনিকে কাটিয়েছিলেন। সার্বিয়াতে ফিরে আসার পর ডোমানোভিচ হতাশ হয়েছিলেন সমাজে কোনও বাস্তব পরিবর্তন না দেখতে পেয়ে। তিনি তার নিজস্ব রাজনৈতিক সাপ্তাহিক জার্নাল “স্ট্রডিয়া” শুরু করেছিলেন, যেখানে তিনি নতুন গণতন্ত্রের দুর্বলতাগুলি সমালোচনা করতেন, কিন্তু তাঁর লেখায় আর আগের মতো তেজ ও অনুপ্রেরণা আর ছিল না।

রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ 35 বছর বয়সে আগস্ট 17, 1908, মধ্যরাতের আধ ঘন্টা পরে মারা যান, দীর্ঘকাল নিউমোনিয়া এবং যক্ষা রোগের সাথে লড়াই করে। তাঁকে বেলগ্রেডের নিউ সেমেটারীতে কবর দেওয়া হয়। তাঁর বাকি অপ্রকাশিত কাজগুলি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় হারিয়ে যায়।

সাহিত্য কর্ম:

রাদ্বয়ে ডোমানোভিচের কয়েকটি বিখ্যাত রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • দানব, 1898
  • আবেগের বিলুপ্তি, 1898
  • ছাপ দেওয়া, 1899
  • নেতা, 1901
  • রাজপুত্র মার্কো সার্বদের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো, 1901
  • স্ট্রডিয়া, 1902
  • ডেড সী, 1902
  • আধুনিক বিদ্রোহ, 1902

“রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ” প্রকল্পটির প্ররিচালনা করেন ভ্লাদিমির জিভানোভিচ একজন কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার, এবং সাহিত্যের উৎসাহী, তাঁর লক্ষ্যে সার্বিয় লেখক রাদ্বয়ে ডোমানোভিচের সম্পূর্ণ রচনাগুলি ডিজিটাইজ করা এবং মূল লেখা ও অনুবাদগুলি বিশ্বের সমস্ত পাঠকদের জন্য উপলব্ধ করা। নিম্নলিখিত গল্পগুলি প্রকল্পটির জন্য বিশেষভাবে অনুবাদ করা হয়েছে এবং এখানে প্রথমবার প্রকাশিত হয়েছে:

  • ছাপ দেওয়া, 1899
  • নেতা (1–2–3), 1901
  • একটি সাধারণ সার্বীয় বলদের যুক্তি, 1902

“রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ” প্রকল্পটির জন্য অনুবাদ করেছেন মৈত্রেয়ী মন্ডল.

%d bloggers like this: