নেতা (1/3)

– ভাইয়েরা ও বন্ধুরা, আমি আপনার সমস্ত বক্তৃতা শুনেছি, তাই এখন আমি আপনাদের অনুরোধ করছি আমার কথা শোনার জন্য। যতক্ষণ আমরা এই অনুর্বর অঞ্চলে রয়েছি আমাদের সমস্ত আলোচনা ও কথোপকথনের কোনও মূল্য নেই। এই বালুকাময় পাথুরে মাটিতে এখনও পর্যন্ত কিছুই বাড়তে পারেনি, এই খরার কথা ছেড়েই দিন, আমরা এর আগে এই রকম খরা আর কখনও দেখিনি। আর কতদিন আমরা এভাবে একত্রিত হয়ে বৃথা বাক্য ব্যয় করব? গবাদি পশু না খেতে পেয়ে মরে যাচ্ছে, এবং খুব শীঘ্রই আমরা এবং আমাদের বাচ্চারাও অনাহার মারা পরব। আমাদের অন্য কোনো ভালো ও যুক্তিসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের এই  অনুর্বর জায়গা ছেড়ে ভাল এবং ঊর্বর কোনো জায়গার সন্ধান করা উচিত কারণ এইভাবে আর বাঁচা যাবে না।

একটি সভায় ক্লান্ত কণ্ঠে কোনো অনুর্বর প্রদেশের বাসিন্দা কখনও এমনটি বলেছিল। আমার মনে হয় কখন এবং কোথায় সে এমন বলেছিল তা আমার ও তোমার জানার প্রয়োজন নেই। আমার ওপর বিশ্বাস রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে অনেক আগে কোনো জায়গায় এমনটি ঘটেছিল এবং এটাই যথেষ্ট। সত্যি কথা বলতে, এক সময় আমি মনে করতাম এই পুরো গল্পটি আমি কোনোভাবে রচনা করেছি কিন্তু ধীরে ধীরে আমার এই ভ্রম থেকে আমি নিজেকে মুক্ত করি। এখন আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমি সত্যিই যা ঘটেছিল তা অবশ্যই উল্লেখ করতে যাচ্ছি এবং অবশ্যই কোথাও না কোথাও এমন ঘটনা ঘটেছিল আর এটা আমি বানিয়ে বানিয়ে বলছি না।

ফ্যাকাসে, ক্লান্ত এবং অভিব্যক্তিহীন মুখ, বিষন্ন, লক্ষ্যহীন দৃষ্টি বেল্টের নিচে হাথ রাখা এই মানুষগুলি যেন এই যুক্তিপূর্ণ কথাগুলি শুনে সম্বিত ফিরে পায়। প্রত্যেকে ইতিমধ্যে কল্পনা করছিল তারা কোনো জাদুকরি, স্বর্গিয়ে জগতে বসবাস করে যেখানে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল স্বরূপ তারা সমৃদ্ধ লাভ করতে পারবে।

– ঠিক কথা! ঠিক কথা! – চারিপাশের ক্লান্তি কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে বলে উঠল।

– এই জায়গাটি কি কাছাকাছি কোথাও আ-ছে? – কোণের দিক থেকে একটি কন্ঠস্বর ধীর গতিতে বলে উঠল।

– ভাইয়েরা! – অন্য একজন আরো একটু দৃঢ় কণ্ঠে বলতে শুরু করে। – আমাদের অবশ্যই এই পরামর্শটি অবিলম্বে অনুসরণ করতে হবে কারণ আমরা আর এইভাবে জীবনযাপন করতে পারব না। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি অনেক কষ্ট ভোগ করেছি কিন্তু সব বৃথা গিয়েছে। আমরা বীজ বপন করেছি যা আমরা খাদ্য় হিসাবে খেতে পারতাম, বন্যা এসে ঢাল থেকে সেই সমস্ত বীজ মাটি সমেত ধুয়ে নিয়ে গেছে, শুধু পাথর রয়ে গেছে। আমাদের কি চিরকাল এখানে থাকতে হবে, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, নগ্ন, খালি পায়ে সকাল থেকে রাত অবধি পরিশ্রম করা সত্তেও? আমাদের অন্য কোথাও ঊর্বর মাটির সন্ধানে যাওয়া উচিৎ যেখানে আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে ফসল ফলবে।

– চলো যাওয়া যাক! এখুনি যাওয়া যাক কারণ এই জায়গাটা আর বসবাসের যোগ্য নয়।

ফিসফিস আওয়াজ উঠতে থাকে, এবং প্রত্যেকে হাঁটতে শুরু করে, কেউ ভাবেনা তারা কোথায় চলেছে।

– দাঁড়াও ভাইয়েরা! কোথায় যাচ্ছেন? – প্রথম বক্তা অবার বলে ওঠে। – অবশ্যই আমাদের যেতে হবে, তবে এভাবে নয়। আমরা কোথায় যাচ্ছি তা জানতে হবে। অন্যথায় আমরা নিজেদের বাঁচানোর পরিবর্তে আরও খারাপ পরিস্থিতিতে গিয়ে পরব। আমার প্রস্তাব আমাদের এমন একজন নেতা কে বেছে নেওয়া উচিত যাঁকে আমরা সবাই মেনে চলব ও যে আমাদের সবথেকে ভালো পথ দেখাবেন।

– আসুন নির্বাচন করুন! আসুন এখনই কাউকে বেছে নেওয়া যাক – চারিদিক থেকে শোনা গেল।

কিন্তু তখনই তর্ক শুরু হয়, সত্যিকারের বিশৃঙ্খলা। প্রত্যেকে কথা বলছিল, কেউ শুনছিল না, শুনতে পাচ্ছিলও না। তারা আলাদা আলদা দলে বিভক্ত হতে শুরু করে, প্রতিটি ব্যক্তি নিজেই বিড়বিড় করতে শুরু করে, আর তারপর সেই দলগুলিও ভেঙে যায়। দু’জন দু’জনে করে একে ওপরের হাত ধরে কথা বলতে শুরু করে প্রতেকেই কিছু প্রমাণ করতে চেষ্টা করে, একে অপরের হাতা ধরে টানাটানি শুরু করে, এবং অন্যকে হাত দেখিয়ে চুপ করাতে চেষ্টা করে। তারপরে তারা সকলে আবার একত্র হয়ে, কিন্তু তবুও কথা বলে চলে।

– ভাইয়েরা! – হঠাৎ করেই একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর শোনা যায় যা অন্য সব কোলাহল বন্ধ করে দেয়। – এইভাবে আমরা কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারব না। প্রত্যেকে কথা বলছে এবং কেউ শুনছে না। আসুন একজন নেতা কে বেছে নেওয়া যাক! আমাদের মধ্যে থেকে কাকে বেছে নেওয়া যায়? আমাদের মধ্যে কে রাস্তাগুলি জানার মত যথেষ্ট ভ্রমণ করেছেন? আমরা সবাই একে অপরকে ভালো করে জানি, এবং তবুও আমি নিজে কে এবং আমার সন্তানদের এখানে হাজির কোনো ব্যক্তির নেতৃত্বের অধীন করতে চাই না। বরং আমাকে বলুন যে কে ওই ভ্রমণকারী যে সকাল থেকে ওই রাস্তার ধারে ছায়ায় বসে আছে?

সবাই চুপ হয়ে যায়। সকলেই অপরিচিত ব্যক্তির দিকে ঘুরে দাঁড়ায় এবং তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখতে থাকে।

মধ্যবয়সী ভ্রমণকারীর মলিন মুখ প্রায় দেখা যাচ্ছিল না লম্বা দাড়ি ও চুলের আড়ালে, আগের মতোই সেখানে চুপ করে বসে থাকেন, চিন্তায় আছন্ন মাঝে মাখে হাতের লম্বা লাঠি মাটিতে ঠুকতে থাকেন।

– গতকাল আমি ওই লোকটিকে একটি ছোট ছেলের সাথে দেখেছি। তারা দুজনে হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এবং গত রাতে ছেলেটি গ্রাম ছেড়ে চলে যায় কিন্তু এই অপরিচিত লোকটি এখানেই থাকে যান।

– ভাইয়েরা, আসুন আমরা এই যুক্তিহীন তর্ক ভুলে যাই যাতে আর সময় নষ্ট না হয়। ওই ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তিনি অনেক দূর থেকে এসেছেন তাই আমরা কেউ থাকে চিনি না এবং আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার সবচেয়ে কম দূরত্বের এবং সর্বোত্তম পথ নিশ্চই তাঁর জানা। আমার বিচারে তিনি একজন অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি কারণ তিনি ওখানে চুপচাপ বসে চিন্তা করছেন। অন্য যে কেউ ইতিমধ্যে দশ বার আমাদের বিষয় নাক গলাতে আসত এবং কথোপকথন শুরু করে দিত আমারদের মধ্যে কারুর সাথে কিন্তু সে সারাক্ষণ ওইখানে চুপচাপ বসে আছেন কিছুই বলছেন না।

– অবশ্যই লোকটি চুপ করে বসে আছেন করুন তিনি কোনো ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন। অন্যথায় আর কিছু নয়, তিনি খুবই বুদ্ধিমান – সবাই একমত হলেন এবং একসাথে অবার অপরিচিত ব্যক্তিটি কে নিরীক্ষণ করতে শুরু করলেন। প্রত্যেকেই তাঁর মধ্যে একটি উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছিলেন, যা তাঁর অসাধারণ বুদ্ধির প্রমাণ।

তাঁরা আর কথা বলায় বেশি সময় ব্যয় করলেন না, সুতরাং অবশেষে সকলেই একমত হলেন যে ভ্রমণকারীকে জিজ্ঞাসা করাই ভাল হবে – যাঁকে, তারা ভাবছিলেন ঈশর এই ব্যক্তিটি কে তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁদের পথ দেখিয়ে অন্য কোনো ঊর্বর ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই ব্যক্তিরই তাদের নেতা হওয়া উচিত এবং তারা এঁর কথা শুনবেন কোনো প্রশ্ন না করে।

তারা নিজের মধ্য থেকে দশ জন কে বেছে নেয় তাদের সিদ্ধান্ত অপরিচিত ব্যক্তির কাছে গিয়ে ব্যাখা করবার জন্য। এই প্রতিনিধিদলটি ওপর দ্বায়িত্ব ছিল অপরিচিত ব্যক্তি কে তাদের শোচনীয় পরিস্থিতিরে কথা বলা ও তাঁকে তাদের নেতা হওয়ার অনুরোধ করার।

দশজন গিয়ে নম্রভাবে মাথা নত করল। তাদের মধ্যে একজন এই অঞ্চলের অনুৎপাদনশীল মাটি সম্পর্কে, খরার সময়ের কথা এবং তাদের দুর্দশার কথা বলতে শুরু করে। তিনি তাঁর বক্তব্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে শেষ করেন:

– এই পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করছে আমাদের বাড়িঘর এবং জমি ছেড়ে চলে যেতে আরো ভালো বাস উপযুক্ত স্থানের সন্ধানে। যে মুহুর্তে আমরা এই সিদ্ধান্ত পৌছাই, যেন ঈশ্বর আমাদের ওপর করুনাময় হয় আপনাকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন – আপনি একজন জ্ঞানী ও যোগ্য অপরিচিত – এবং আপনি আমাদের নেতৃত্ব দেবেন এবং আমাদের দুর্দশা থেকে মুক্ত করবেন। এখানকার সমস্ত বাসিন্দাদের হয় আমরা আপনাকে আমাদের নেতা হতে অনুরোধ করছি। আপনি যেখানেই যাবেন, আমরা আপনাকে অনুসরণ করব। আপনি রাস্তা চেনেন এবং অবশ্যই আপনি কোনো সুখের ও ভালো স্থানে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। আমরা আপনার কথা শুনব এবং আপনার প্রতিটি আদেশ পালন করব। হে, বিজ্ঞ অচেনা মানুষ আপনি কি এতগুলি প্রাণকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে রাজি হবেন? আপনি কি আমাদের নেতা হবেন?

এই অনুনয় পূর্ণ বক্তৃতা চলাকালীন সেই জ্ঞানী অপরিচিত ব্যক্তি একবারও মাথা তোলেন না। পুরো সময় তিনি সেই একই অবস্থানে থেকেন যেভাবে তাঁরা তাঁকে প্রথমে দেখতে পেয়েছিল। তাঁর মাথা নীচু, চেহারায় ভ্রূকুটি, কোনো কথা বলেন না। কিছু সময় অন্তর হাতের লাঠি দিয়ে মাটি ঠুকতে থাকেন এবং – চিন্তা করতে থাকেন। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে নিজের অবস্থান না বদলে তিনি ধীরে এবং রূঢ়হ ভাবে বিরিবির করে বলেন:

– আমি করব!

– আমরা কি তাহলে আপনার সাথে যেতে পারি এবং আরও ভাল জায়গার সন্ধান করতে পারি?

– পারেন! – তিনি মাথা না তুলে বলে যান।

সবার মুখে উৎসাহ এবং প্রশংসা ফুটে ওঠে, কিন্তু অপরিচিত ব্যক্তিটি তা দেখেও একটি শব্দ বলেন না।

দশজন সমবেত বাকি সবাই কে গিয়ে তাদের সাফল্যের কথা জানায়, এবং এও বলে তারা এখন বুঝতে পেরেছে এই ব্যক্তি বিপুল জ্ঞানের  ভান্ডারের অধিকারী।

– তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাননি করা তাঁর সাথে কথা বলছে দেখার জন্য মাথাও তোলেননি। তিনি কেবল চুপচাপ বসে ধ্যান করতে থাকেন। আমাদের সমস্ত আলোচনা এবং প্রশংসার উত্তরে তিনি কেবল চারটি কথা বলেন।

– সত্যিকারের একজন ঋষি! বিরল বুদ্ধিসম্পন্ন! – চারিদিক থেকে তাঁরা আনন্দে চিৎকার করে বলে ওঠেন স্বর্গ থেকে ঈশ্বর নিজেই একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দিয়েছেন তাদের বাঁচানোর জন্য। সকলেই এমন নেতার নেতৃত্বের অধীনে সাফল্যের দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন, যাকে বিশ্বের কোনও কিছুই হতাশ করতে পারে না। এবং তাই পরের দিন ভোরবেলায় যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

(পরের পৃষ্ঠা)

ছাপ দেওয়া

আমি একটা খারাপ স্বপ্ন দেখি। আমি নিজেও স্বপ্নে এত বিস্মিত হই না, তবে আমি অবাক হয়ে ভেবে যে আমার মধ্যে খারাপ স্বপ্ন দেখার মত সাহস কি করে আসে, যখন আমি নিজে একজন শান্ত এবং শ্রদ্ধেয় নাগরিক, আমাদের ভালোবাসার, দুস্থ মা সার্বিয়ার একজন বাধ্য ছেলে, তার অন্যান সন্তানদের মতোই। অবশ্যই, আপনি জানেন, আমি যদি কোনও ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম হতাম তবে এটি অন্যরকম হত, কিন্তু না, আমার প্রিয় বন্ধু, আমি অন্য সবার মতোই একই কাজ করি যেমন সব কাজের প্রতি যত্নবান হওয়া সেই ক্ষেত্রে আমাকে কেউ টেক্কা দিতে পারবে না। একবার আমি রাস্তায় একজন পুলিশ কর্মির ইউনিফর্মের একটি চকচকে বোতাম পড়ে থাকতে দেখি, আমি প্রায় পেরিয়ে চলে যাচ্ছিলাম তখন চকচকে বোতামটা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, আমার মন মধুর স্মৃতিতে পূর্ণ হয় যায়, যখন হঠাৎ আমার হাত কাঁপতে লাগল এবং আমি সেলাম করালাম; আমার মাথা নিজেই মাটির দিকে নত হল এবং আমার মুখে সেই হাঁসি ফুটে উঠলো যেমন করে আমাদের উর্ধ্বতনদের শুভেচ্ছা জানানোর সময় হাঁসতাম।

– আমার শিরায় আভিজাত্যের রক্ত বইছে – নিশ্চই এটাই কারণ! – সেই মুহুর্তে আমি এটাই চিন্তা করি এবং পাশ দিয়ে যে অভদ্র লোকেরা বোতামের ওপর অযত্নে পা দিয়ে চলে যাচ্ছিল তাদের দিকে বিরক্তির সাথে তাকাই।

– অভদ্র! – আমি বিরক্ত ভাবে বললাম, এবং থুতু ফেললাম, এবং তারপরে চুপচাপ হেঁটে গেলাম, এই ভেবে যে এইরকম অভদ্র মানুষ খুব কমই আছে, এবং আমি বিশেষভাবে খুশী হয়ছিলাম যে ঈশ্বর আমাকে আমার পূর্বপুরুষদের পরিশুদ্ধ হৃদয় এবং মহৎ ও শৌখিন রক্ত দিয়ে আশির্বাদ করেছেন।

আমি এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি দারুন একজন মানুষ, অন্য সম্মানিত নাগরিকদের থেকে মোটেও আলাদা নই, আপনিও তাই অবাক হবেন ভেবে কিভাবে আমার স্বপ্নে এই রকম একটি খরাপ ও বোকামির ঘটনা ঘটতে পারে।

সেদিন আমার সাথে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। আমি ভালো রকম রাত্রি ভোজন করার পরে আমার করে দাঁত খুঁটছিলাম; আমার ওয়াইনে চুমুক দিচ্ছিলাম এবং তারপরে, নাগরিক হিসাবে আমার অধিকার সাহস ও আন্তরিকতার সাথে ব্যবহার করার পরে, আমি একটা বই নিয়ে বিছানায় শুতে যাই আরও দ্রুত ঘুমিয়ে পোড়ার জন্য।

বইটি শীঘ্রই আমার হাত থেকে পড়ে যায় অবশ্যই, আমার আকাঙ্ক্ষাক পূরণ করে, আমার সমস্ত দায়িত্ব পালনের পরে আমি একটি নির্দোষ ভেড়ার মত শান্তিতে ঘুমিয়ে পরি।

হঠাৎ করে আমি নিজেকে পর্বতের মধ্যে একটি সরু কাদাময় রাস্তার উপর দেখি। রাতটি ঠাণ্ডা এবং অন্ধকার ছিল। পাতা শূন্য গাছের ডালের মধ্য দিয়ে ঠাণ্ডা হওয়া বইছিল যা চামড়া কেটে যাচ্ছিল রেজারের মতো। আকাশ ছিল অন্ধকার, নিস্তব্ধ, ভয়াবহ আর তুষার ছিল ধুলার মতো, চোখে ঢুকে যাচ্ছিল, মুখে লাগছিল। আসেপাশে অন্য কোনো প্রাণী দেখা যাচ্ছিল না। আমি তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম এবং মাঝে মাঝেই রাস্তার কাদায় পিছলে পরছিলাম। ঘুরতে ঘুরেতে, পরে যেতে যেতে, অবশেষে আমি রাস্তা হারাই – ভগবান জানেন কোথায়, এটি কোনো ছোট্ট সাধারণ রাত ছিল না, রাতটা এক শতাব্দীর মত দীর্ঘ ছিল, এবং আমি জানিনা কোথায় আমি হেঁটেই চলেছিলাম।

তাই আমি বহু বছর ধরে হেঁটে চলি এবং অনেক অনেক দূরের কোনো এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছাই মার জন্মভূমি থেকে অনেক দূরের কোনো অদ্ভূত জায়গায়, সেই জায়গার কথা হয়তো কেউ জানে না এবং যা আমি নিশ্চিত, কেবল স্বপ্নেই দেখা যায়।

সেই জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে আমি একটি বড় শহরে এসে পরি যেখানে অনেক মানুষের বাস। বড় একটি বাজারে অনেক ভিড় ছিল, ভয়ঙ্কর একটি আওয়াজ হচ্ছিল, কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। আমি বাজারে মুখোমুখি একটি সরাইখানায় গিয়ে উঠি এবং মালিক কে জিজ্ঞাসা করি এত লোকে ভিড় কেন করেছে…

– আমরা শান্ত ও শ্রদ্ধেয় মানুষ, – তিনি তাঁর গল্পটি শুরু করেন – আমরা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুগত এবং বাধ্য।

– ম্যাজিস্ট্রেট কি আপনাদের সর্বোচ্চ কর্তা? – আমি তাকে বাধা দিয়ে জিজ্ঞাসা করি।

– ম্যাজিস্ট্রেট এখানকার সর্বেসর্বা এবং তিনিই আমাদের সর্বোচ্চ কর্তা; তারপরে পুলিশ।

আমি হাসি।

– হাসছেন কেন?… আপনি কি জানতেন না?… আপনি কোথা থেকে আসছেন?

আমি তাকে বলি আমি কিভাবে পথ হারিয়ে ফেলেছি, এবং আমি বহু দুরের একটি দেশ – সার্বিয়া থেকে এসেছি।

– আমি সেই বিখ্যাত দেশের কথা শুনেছি! – বাড়িওয়ালা নিজেই ফিসফিস করে বলে,  আমার দিকে শ্রদ্ধার সাথে তাকিয়ে, তারপরে তিনি উচ্চস্বরে বললেন:

– সেটাই আমাদের ধারা, – তিনি বলতে থাকেন, – ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর পালিশ নিয়ে এখানে আধিপত্য করে।

– আপনাদের পুলিশ কেমন?

– বিভিন্ন ধরণের পুলিশ আছে – এবং তারা তাদের পদমর্যাদা অনুসারে আলাদা হয়। বিশিষ্ট এবং কম বিশিষ্ট পুলিশ আছে… আপনাকে আগেই বলেচি আমরা শান্তিপ্রিয়, শ্রদ্ধেয় মানুষ কিন্তু আসপাসের এলাকা থেকে অভদ্র মানুষেরা এসে পড়ে, তারা আমাদেরকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে এবং আমাদের মন্দ নিজিস শেখায়। আমাদের প্রত্যেক নাগরিককে অন্য ব্যক্তির থেকে আলাদা করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল একটি আদেশ দিয়েছিলেন যে আমাদের সমস্ত নাগরিককে স্থানীয় আদালতে যেতে হবে, যেখানে আমাদের প্রত্যেকের কপালে লোহা গরম করে ছাপ দেওয়া হবে। এই কারণেই এত লোক একত্রিত হয়েছে: কি করা উচিত সে বিষয়ে পরামর্শ করতে।

আমি হতবাক হয়ে ভেবেছিলাম যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার এই অদ্ভুত দেশ থেকে পালানো উচিত, কারণ আমি একজন সার্ব হওয়া সত্তেও এমন শৌখিন চেতনার সাথে অভ্যস্ত ছিলাম না, এবং এই সম্পর্কে আমার কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছিল!

বাড়িওয়ালা সদয়ভাবে হেসে ওঠে, এবং আমার কাঁধে হাত রেখে গর্বের সাথে বলেন:

– আহ, অপরিচিত, আপনি কি এতেই ভয় পেয়ে গেলেন? এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, আমাদের মতো সাহসী হতে গেলে আপনাকে অনেক দূর যেতে হবে!

– আপনি কি বলতে চাইছেন? – আমি ভীত হয় জিজ্ঞাসা করি।

– কি দুর্দান্ত প্রশ্ন! আপনি দেখতে চান আমরা কতটা সাহসী। আমাদের মত সাহসী হতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। আপনি অনেকদূর ভ্রমণ করেছেন এবং জগৎ দেখেছেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আপনি আমাদের চেয়ে বড় বীর কখনও দেখেননি। আসুন আমরা একসাথে সেখানে যাই। আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

আমরা যেতে যাচ্ছি ঠিক তখনি আমরা সামনের দরজায় চাবুকের অওয়াজ শুনলাম।

আমি বাইরে উঁকি দিলাম: একটা দেখার মত দৃশ্য ছিল– একটা লোক মাথায় চকচকে, তিনটি শিংযুক্ত পদস্থ টুপি, জমকালো পোশাক পড়ে অন্য একটা লোকে পিঠে চড়ে চাচ্ছিল যার পরনে ছিল দামি কিন্তু সাধারণ ধাঁচের। তিনি সরাইখানার সামনে দাড়ান এবং আরোহী নেমে আসেন।

বাড়িওয়ালা বাইরে গিয়ে মাথা মাটিতে মাথা নত করেন, এবং জমকালো পোশাক পড়া ব্যক্তিটি সরাইখানার ভিতরে একটি  সজ্জিত টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। সাধারণ নাগরিকের পোশাক পড়া লোকটি সরাইখানার সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বাড়িওয়ালা তাকে দেখেও মাথা নত করে প্রণাম করেন।

– এই সব কি হচ্ছে? – আমি হতবাক হয় বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

– যিনি সরাইখানার ভিতরে গেলেন তিনি একজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ, এবং এই ব্যক্তিটি আমাদের অন্যতম বিশিষ্ট নাগরিক, খুব ধনী, এবং একজন মহান দেশপ্রেমিক – বাড়িওয়ালা ফিসফিস করে বললেন।

– তবে কেন উনি অন্য একজনকে তাঁর পিঠে চড়তে দিয়েছেন?

বাড়িওয়ালা আমার দিকে মাথা নাড়লেন এবং আমরা একপাশে সরে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে একটি অবজ্ঞাপূর্ণ হাসি দিয়ে বললেন:

– আমরা এটিকে একটি মহান সম্মান হিসাবে বিবেচনা করি যা কদাচিৎ প্রাপ্য! – এ ছাড়াও তিনি আমাকে আরও অনেক কিছু বলেন কিন্তু আমি এতটাই উত্তেজিত ছিলাম যে আমি তার কথা বুঝতে পারিনা। তবে তিনি শেষে যা বলেন তা আমি পরিষ্কারভাবে শুনতে পাই: – এটি দেশের প্রতি এমন একটি সেবা যা সমস্ত জাতি এখনও প্রশংসা করতে শেখেনি!

আমরা বৈঠকে এসে পৌঁছায়ই তখন চেয়ারম্যান নির্বাচন করা শুরু হয় গিয়েছিল।

যদি আমি নামটির সঠিকভাবে মনে পারছি, প্রথম দলটি কল্ব নামক এক ব্যক্তিকে বেছে নেয়, চেয়ারের প্রার্থী হিসাবে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে; দ্বিতীয় দলটি তাল্ব কে চাইছিল এবং তৃতীয় দলের ও নিজস্ব প্রার্থী ছিল।

ভয়াবহ বিভ্রান্তি ছিল; প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব প্রতিনিধির দাবি জানাচ্ছিল।

– আমি মনে করি যে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সভার সভাপতির পদ গ্রহণ করার জন্য আমাদের কাছে কোল্বের চেয়ে বেশি উপযুক্ত ব্যক্তি আর কেউ নেই, – প্রথম দল থেকে একজন বলে ওঠে – কারণ আমরা সকলেই নাগরিক হিসাবে তাঁর গুণাবলী এবং তার দুর্দান্ত সাহসের কথা জানি। আমি   গর্ব করে বলতে পারি যে এখানে আমাদের মধ্যে অন্য আর কেউ উপস্থিত নেই যার পিঠে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এত বড় চড়েছেন…

– এ সম্পর্কে কথা বলার আপনি কে, – দ্বিতীয় দলের কেউ প্রতিবাদ জানায়। – আপনার পিঠে কখনও কোনো নিম্ন পদস্থ পুলিশ ক্লার্ক ও চড়েনি!

– আমরা আপনার গুন সম্পর্কে অবগত, – তৃতীয় দলের কেউ চিৎকার করে বলে ওঠে। – আপনি কখনও চিৎকার না করে চাবুকের এক ঘা ও সহ্য করতে পারেননি!

– একটি কথা ঠিক করে বুঝে নেওয়া ভালো! – কল্ বলতেব শুরু করেন। – এটা ঠিক যে দশ বছর আগের থেকে আমার পিঠে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা চড়ছেন; তাঁরা আমাকে চাবুক মেরেছেন এবং আমি এক বারও আয়জায় করিনি, এটা হতেই পারে আমাদের মধ্যে আরো বেশি যোগ্য কোনো ব্যক্তি আছেন। সম্ভবত আরো ভালো এবং বয়স কম।

– না, না, – তাঁর সমর্থকরা কেঁদে ওঠেন।

– আমরা পুরানো পুরষ্কার সম্পর্কে শুনতে চাই না! দশ বছর পেরিয়ে গেছে শেষ যখন কেউ কল্বের পিঠে চড়েছিল, – দ্বিতীয় দল চেঁচিয়ে বলে উঠল।

– কম বয়সীরা দ্বায়িত্ব গ্রহণ করছে বয়স্কদের যেতে দিন – তৃতীয় দলের কিছু লোক বলে উঠল।

হঠাৎ সব নিস্তব্ধ হয়ে গেল; লোকে পিছনে সরে গেল, ডাইনে বাঁয়ে সরে গেল, রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য এবং আমি প্রায় ত্রিশ বছরের এক যুবককে দেখতে পেলাম। তিনি যখন সামনে এগিয়ে আসছিলেন অন্য সবাই মাথা নত করছিল।

– ইনি কে? – আমি আমার বাড়িওয়ালাকে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করলাম।

– উনি একজন জনপ্রিয় নেতা। একজন যুবক, কিন্তু খুব আশাব্যঞ্জক। প্রথম দিকে উনি দিনে তিনবার ম্যাজিস্ট্রেটকে তার পিঠে বহন করেছিলেন বলে গর্ব করতেন। তিনি অন্য সবার চেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

– ওরা সম্ভবত এনাকেই নির্বাচিত করবেন? – আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

– সেটা হওয়ার সম্ভাবনাই সব থেকে বেশি, কারণ অন্য সব প্রার্থীরা – তারা সবাই বয়স্ক, সময়ের কাছে তাদের হার হয়ছে, সেই জায়গায় ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল এঁর পিঠে কিছুক্ষণ চড়েছিলেন।

– এনার নাম কি?

– ক্লেয়ার্ড।

তারা তাঁকে সম্মানের জায়গা দেয়।

– আমি মনে করি, – কল্বের কণ্ঠস্বর নীরবতা ভঙ্গ করে – আমরা এই পদের জন্য ক্লেয়ার্ডের চেয়ে বেশি উপযুক্ত ব্যক্তি আর খুঁজে পাবনা। উনি একজন যুবক কিন্তু তবুও বয়স্কদের মধ্যেও কেউ তাঁর সমান নয়।

– ক্লেয়ার্ডের জয়!… ক্লেয়ার্ড দীর্ঘজীবী হন! – সমস্ত কণ্ঠস্বর গর্জে উঠলো।

কল্ব এবং তাল্ব তাকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গেলেন। সবাই অনেকটা মাথা নত করল, একেবারে নিস্তব্ধতা ছিল।

– ভাইয়েরা, আপনার উচ্চ সম্মান আমাকে সর্বসম্মতভাবে দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের আস্থা আছে আমার উপর জেনে আমি বাধিত। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে জাতির ইচ্ছার জাহাজ চালানো করা সহজ নয়, তবে আমি আপনাদের বিশ্বাসকে যথাযত সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করব, সততার সাথে আপনাদের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করব এবং এবং যে সম্মান আপনারা আমাকে দিয়েছেন তার যথার্থতা প্রমাণ করতে সব রকম চেষ্টা করব। ভাইয়েরা, আমাকে নির্বাচন করার জন্য ধন্যবাদ।

– হুররে! হুররে! হুররে! – ভোটাররা চারদিক থেকে উল্লাস করে ওঠেন।

– এবং এখন, ভাইয়েরা, আমি আশা করি আপনারা এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি সম্পর্কে আমাকে কিছু কথা বলার অনুমতি দেবেন। আমাদের মধ্যে যে রকম যন্ত্রণা আর কষ্ট জমে আছে তা সহ্য করা সহজ নয়; কারুর পক্ষেই কপালে গরম লোহার ছাপ লাগানো সহজ নয়। আসলে, না – এমন কিছু যন্ত্রণা আছে যা সব পুরুষ সহ্য করতে পারে না। কাপুরুষদের ভয় কাঁপতে দিন, তারা ভয়ে জ্বলে উঠুক, তবে আমরা এক মিনিটের জন্যও যেন না ভুলি যে আমরা সাহসী পূর্বপুরুষের পুত্র, যে মহৎ রক্ত আমাদের শিরাগুলিতে বইছে, আমাদের ঠাকুরদাদের বীরত্বপূর্ণ রক্ত, মহান নাইটরা যারা এক বারও পলক না ফেলে মন্রণ স্বরিকার করত স্বাধীনতা এবং আমাদের সবার মঙ্গলের জন্য, আমরা তাদের তাদের বংশধর। আমাদের যন্ত্রণা সামান্য, আপনি যদি তাদের কষ্টের কথা ভাবেন – আমরা কি এখন আগের চেয়ে অধিকতর উন্নত জীবনযাপন করছি বলে কি আমরা অধঃপতিত ও কাপুরুষোচিত জাতের সদস্যদের মতো আচরণ করব? প্রতিটি সত্য দেশপ্রেমিক, প্রত্যেকে যারা আমাদের জাতিকে সমস্ত বিশ্বের সামনে লজ্জায় ফেলতে চান না, তারা একজন মানুষ এবং বীরের মতো যন্ত্রণা সহ্য করবেন।

– ক্লেয়ার্ডের জয়!… ক্লেয়ার্ড দীর্ঘজীবী হন!

ক্লেয়ার্ডের পরে বেশ কিছু উজ্জীবিত বক্তা কথা বলেছিলেন; তারা আতঙ্কিত লোকদের উৎসাহিত করছিলেন এবং ক্লেয়ার্ড যা বলেছিল কমবেশি তারই পুনরাবৃত্তি করছিলেন।

তারপরে একজন ফ্যাকাশে ক্লান্ত মুখের বৃদ্ধ মানুষ, কথা বলার আজ্ঞা চান, তাঁর মুখে বলি রেখা ছিল এবং চুল ও দাড়ি বরফের মতো সাদা ছিল। তার হাঁটু বয়সের কারণে কাঁপছিল, হাত কাঁপছিল, পিঠ বেঁকে গিয়েছিল।তাঁর কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, চোখ অশ্রুর কারণে উজ্জ্বল ছিল।

– সন্তানেরা, – তিনি শুরু করেন, কুঁচকানো গালের ওপর দিয়ে তার সাদা দাড়ির মধ্য দিয়ে কান্না ঝড়ে পরছিল, – আমার অবস্থা খুব খারাপ এবং আমি শীঘ্রই মারা যাব তবে আমার মনে হচ্ছে আপনারা এই জাতীয় লজ্জা আপনাদের কাছে আসতে দিয়ে চান না। আমার বয়স একশ বছর, এবং আমি ওটা ছাড়া সমস্ত জীবন কাটিয়েছি! … দাসত্বের ছাপ এখন আমার সাদা এবং ক্লান্ত মাথায় কেন লাগানো হবে? …

– ওই বৃদ্ধ দুর্বৃত্ত কে সরিয়ে ফেলো! – চেয়ারম্যান চিৎকার করে ওঠেন।

– ওকে সরিয়ে ফেলো! – অন্যরা চিৎকার করল।

– বুড়ো কাপুরুষ!

– যুবকদের উৎসাহিত করার পরিবর্তে উনি সবাইকে ভয় দেখাচ্ছেন!

– ওনার সাদা চুল সম্পর্কে ওনার লজ্জা হওয়া উচিত! উনি   যথেষ্ঠ সময় জীবিত আছেন আর এখনও ভয় পাচ্ছেন – আমরা তরুণরা অনার থেকে বেশি সাহসী…

– কাপুরুষ কে দূরে সরাও!

– ওনাকে বের করে দাও!

– ওনাকে দূরে সরাও!

সাহসী, যুবক দেশপ্রেমীর একটি ক্রুদ্ধ দল বৃদ্ধের দিকে ধেয়ে এলো এবং ক্রোধে তাকে ধাক্কা দিতে লাগল, তাকে ধরে টানাটানি করতে লাগল, এবং লাথি মারতে শুরু করল।

অবশেষে তারা তাঁকে তাঁর বয়সের কারণে ছেড়ে দিল – অন্যথায় তারা তাঁকে জীবন্ত পাথর মেরে মেরে ফেলতে পারত।

তারা প্রত্যেকে প্রতিজ্ঞা করল আগামীকাল সাহসী হওয়ার এবং নিজেদের জাতির গৌরব অর্জনের যোগ্য বলে প্রমাণ করার।

লোকেরা দুর্দান্ত শৃংখলাবদ্ধ ভাবে সভা ছেড়ে চলে গেলেন। যাওয়ার সময় তারা বলছিলেন:

– কাল আমরা দেখব কার কত সাহস!

– কাল আমরা মিথ্যা অহংকারীদের চিহ্নিত করতে পারব!

– যোগ্য লোকদের অযোগ্যদের থেকে আলাদা করার সময় এসেছে, যাতে প্রতিটি শঠ সাহসী হওয়ার গর্ব করতে পারবে না!

আমি আবার সরাইখানায় চলে গেলাম।

– আপনি কি দেখতে পেয়েছেন আমরা কি দিয়ে তৈরি? – আমার বাড়িওয়ালা আমাকে গর্বের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন।

– প্রকৃতপক্ষে আমি দেখতে পেয়েছি, – আমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর দিলাম, আমার নিজেকে শক্তিহীন মনে হয় এবং আমার মনে অদ্ভূত চিন্তা ভাবনা ঘুরছিল।

সেদিনই আমি তাদের পত্রিকায় একটি শীর্ষস্থানীয় নিবন্ধ পড়েছিলাম যাতে লেখা হয়েছিল:

– নাগরিকগণ, এখন এসেছে অযৌক্তিক অহঙ্কার ও কপটতা বন্ধ করার; আমাদের কল্পিত গুণাবলী প্রদর্শনের জন্য দম্ভ করা বন্ধ করার সময় এসেছে। সময় এসেছে, নাগরিকরা, আমাদের দম্ভ আসল কি নকল তা  প্রমাণ করার, এখন প্রমাণ হয় যাবে কে যোগ্য আর কে যোগ্য নয়! তবে আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের মধ্যে এমন কোনও লজ্জাজনক কাপুরুষ নেই যাদেরকে জোর করে নির্ধারিত ছাপ মারার জায়েগায় নিয়ে যেতে হবে। আমরা প্রত্যেকে যারা নিজেদের শিরাতে পূর্বপুরুষদের রক্তের এক ফোঁটা অনুভব করি তারা গর্বের সাথে এবং নিঃশব্দে কষ্ট সহ্য করার জন্য প্রথম সারিতে দাঁড়াবে কারণ এটি আমাদের বলিদান আমাদের দেশ এবং আমাদের সকলের মঙ্গলের জন্য। সামনে এগিয়ে চলুন নাগরিকগণ, আগামীকাল মহৎ পরীক্ষার দিন!…

পরের দিন নিযুক্ত স্থানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌছানোর জন্য আমার বাড়িওয়ালা সভা শেষ হওয়ার পরেই শুতে চলে গেলেন। অনেকে অবশ্য কাতারের একেবারে সামনে থাকার জন্য সরাসরি টাউন হলে চলে গেলেন।

পরের দিন আমিও টাউন হলে গেলাম। যুবক এবং বৃদ্ধ, পুরুষ এবং মহিলা সবাই সেখানে ছিলেন। কিছু মা তাদের ছোট সন্তানদের কোলে তুলে নিয়ে এসেছিলেন তাদের মাথায়ে ও দাসত্বের ছাপ লাগানোর জন্য, এটি তাদের জন্য সম্মানের বিষয় ছিল যাতে তারা বেসামরিক চাকুরীর উচ্চতর পদে অধিক অধিকার অর্জন করতে পারে।

সেখানে ঠেলাঠেলি গালাগালি চলছিল (এই বিষয় তারা সার্বদের মতোই, যা দেখে আমি একরকম খুশিই হয়ছিলাম) সবাই দরজার সামনে যেতে চাইছিল। কেউ কেউ অন্যের গলাও চাপে ধরছিল।

লোহার শিকগুলি সাদা আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিহিত বিশেষ সরকারী কর্মচারী লাগছিলেন তারা মৃদুভাবে লোকেদের বকাবকি করছিলেন:

– ঈশ্বরের দোহাই ঠেলাঠেলি করবেন না, সবার সুযোগ আসবে – আপনারা জন্তু নন, ঠেলাঠেলির প্রয়োজন নেই।

ছাপ দেওয়া শুরু হল। একজন চিৎকার করে উঠলো, অন্য একজন ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলো, তবে যতক্ষণ আমি সেখানে ছিলাম ততক্ষণ কেউ শব্দ না করে সহ্য করতে সক্ষম হয়নি।

আমি এই নির্যাতন বেশিক্ষণ দেখতে পারিনি, তাই আমি সরাইখানায় ফিরে যাই, কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যেই কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন, তারা খাবার খাচ্ছিলেন পান করছিলেন।

– শেষ! – তাদের মধ্যে একজন বলেন।

– আমরা তেমন চিৎকার করিনি, কিন্তু তাল্ব গাধার মত চিৎকার করছিল! … – বলল আরেকজন।

– দেখতে পাচ্ছেন আপনার তাল্ব কেমন, এবং আপনি গতকাল তাকে সভার চেয়ারম্যান বানাতে চাইছিলেন।

– আহ, আপনি কখনোই ঠিক বলতে পারেন না!

তারা ব্যথায় আর্তনাদ করতে করতে কথা বলছিল, কিন্তু একে ওপরের থেকে ব্যাথা লুকানোর চেষ্টা করছিল, কারণ তার চাইছিল না অন্যরা তাকে কাপুরুষ মনে করুক।

ক্লেয়ার্ড নিজের সম্মান হারিয়েছে কারণ সে কঁকিয়েছে, এবং লিয়ার নামক এক ব্যক্তি বীরপুরুষ হয় উঠেছে কারণ সে নিজের মাথায় দুটো চাপ লাগিয়েছে আর ব্যথায় লাগলেও কোনো শব্দ করেনি। সারা শহর শ্রদ্ধার সাথে শুধু তারই চর্চা করছে।

কিছু লোক পালিয়ে যায় কিন্তু সবাই তাদের নিন্দা করছে।

কিছু দিন পরে যার কপালে দুটি চাপ ছিল সে মাথা উঁচু করে গর্বের সাথে ঘুরে বেড়াতে লাগল, এবং সে যেখানেই যেত সবাই মাথ নিচু করে টুপি খুলে বীরকে অভিবাদন জানাত।

পুরুষ, মহিলা এবং বাচ্চারা তার পিছন পিছন ছুটে যেত জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটিকে দেখতে। তিনি যেখানেই যেতেন বিস্ময়ে বিস্মিত হয় মানুষে তার পিছনে পিছনে যেত ফিসফিস করে বলতে বলতে: ‘লিয়ার লিয়ার!… এই সে!… এই সে বির পুরুষ যে চিৎকার করেনি যখন তার কপালে দুটি ছাপ দেওয়া হচ্ছিল!’ সংবাদপত্রের শিরোনামে তাঁকে প্রশংসিত ও মহিমান্বিত করা হয়েছিলেন।

এবং মানুষের ভালবাসা তার প্রাপ্য ছিল।

সমস্ত জায়গাতেই আমি এইরকম প্রশংসা শুনে আমার নিজেকে বৃদ্ধ মনে হতে লাগল, আমার শিরাতে অভিজাত্ সার্বীয় রক্ত প্রবাহিত হতে অনুভব করলাম, আমাদের পূর্বপুরুষরা বীর ছিলেন তারা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়ে ছিলেন; আমাদের বীরত্বপূর্ণ অতীত এবং আমাদের কসোভোও রয়েছে। আমি জাতীয় গর্ব এবং অহঙ্কারের কারণে রোমাঞ্চিত বোধ করি এবং আমার জাতটি কতটা সাহসী তা দেখাতে আমি টাউন হলে ছুটে এসে চিৎকার করতে আগ্রহী হয় উঠি:

– আপনি আপনাদের লিয়ারের প্রশংসা কেন করছেন?… আপনারা কখনও আসল বীর দেখেননি! এসে নিজের চোখে দেখুন অভিজাত সার্বিয়ান রক্ত কেমন হয়! আমার মাথায় দুটি নয় দশটি চাপ লাগান!

সাদা পোশাক পরিহিত সরকারী কর্মচারী আমার কপালের কাছে একটি লোহার শিক নিয়ে আসে এবং আমি শুরু করি… আমার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

আমি ভয়ে আমার কপাল ঘষি, স্বপ্নে কত অদ্ভূত ঘটনা দেখা যায় ভাবতে ভাবতে।

– আমি তাদের লিয়ারের গৌরব প্রায় ছাপিয়ে গিয়েছিলাম, – আমি ভেবে সন্তুষ্ট হই এবং পাশ ফিরি এবং আমার একটু দুঃখ হয় যে স্বপ্নটা মাঝখানে ভেঙে যায়।

 

বেলগ্রেডে, 1899।
“রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ” প্রকল্পটির জন্য অনুবাদ করেছেন মৈত্রেয়ী মন্ডল, 2020।

একটি সাধারণ সার্বীয় বলদের যুক্তি

এই পৃথিবীতে বিস্ময়কর অনেক ঘটনা ঘটে, বং আমাদের দেশ যেমন অনেকে বলে থাকে, বিস্ময়কর জিনিসে এত বেশি ভরপুর যে বিস্ময়কর জিনিস আর বিস্ময়কর নেই। এখানে খুব উঁচু পদে এমন লোকেরা আছেন যারা একেবারেই কোনো চিন্তা ভাবনা করেন না এবং ক্ষতিপূরণ হিসাবে বা অন্য কোনও কারণে, সাধারণ কৃষকের বলদ, যা অন্য সার্বিয়ান গরুর চেয়ে কিছুমাত্র আলাদা নয়, ভাবতে শুরু করেছে। ঈশ্বরই জানেন এমন কি ঘটেছিল যার কারণে এই বুদ্ধিমান প্রাণীটি এই ধরনের সাহসী প্রচেষ্টা করার সাহস পেয়েছে। আসুন তাহলে বলা যাক যে এই বেচারা প্রাণীটি এতই সরল যে সে জানতনা এই প্রচেষ্টা তার স্বদেশে লাভজনক নয় সুতরাং আমরা তাকে কোনও বিশেষ নাগরিক সাহসে গুনী বলব না।তবে এটি এখনও একটি রহস্য হিসাবে রয়ে গেছে যে কেন একটি বলদের চিন্তা করার প্রয়োজন পড়েছিল যখন সে ভোটদাতা নন, কাউন্সিলর নন, ম্যাজিস্ট্রেট ও নন, তাকে কোনো গবাদি সমাবেশের ডেপুটি হিসেবে ও নির্বাচিত করা হয়নি এমনকি (যদি সে একটি নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছেছে) একজন সিনেটর হিসাবেও নন। এবং যদি অবলা প্রাণী কোনও গবাদি দেশের রাজ্য মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখত তবে তাঁর জানা উচিত ছিল যে বিপরীতভাবে তার কম চিন্তা ভাবনা করার প্রয়োজন, কিছু সুখী দেশের দুর্দান্ত মন্ত্রীদের মত, যদিও আমাদের দেশ এ ক্ষেত্রে এতটা ভাগ্যবান নয়। অবশেষে কেন সার্বিয়ার একটি বলদ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে যা এখানকার মানুষ করা ছেড়ে দিয়েছে সে নিয়ে আমরা কেন চিন্তা করব? এছাড়াও, হপ্তে পারে এই প্রাণীটি কোন প্রাকৃতিক প্রবৃত্তির কারণে চিন্তাভাবনা করা শুরু করেছে।

তাহলে এটি কোন ধরনের বলদ? একটি সাধারণ বলদ, যেমন প্রাণিবিদ্যায় আমরা দেখে থাকি অন্যান্য বলদের মতোই একটি মাথা, দেহ এবং পা আছে; এটা গাড়ি টানে, ঘাস চড়ে খায়, নুন চাটে, জাবর কাটে ও ডাক ছারে। এর নাম সিভোনিয়া, একটি ধূসর রঙের বলদ।

সে এই ভাবে চিন্তা ভাবনা করতে শুরু করে। একদিন ওর মালিক ওর এবং ওর বন্ধু গালোনিয়া কে জোয়াল বাঁধে এবং গাড়িতে কিছু চুরি করা  বেড়া দেওয়ার পাটা বোঝাই করে বিক্রি করতে শহরে নিয়ে গেলেন। প্রায় শহরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই তিনি পাটাগুলি বিক্রি করে দেন ও এবং সিভোনিয়া এবং তার বন্ধু কে জোয়াল থেকে মুক্ত করেন জোয়ালের সাথে যে শিকল দিয়ে বাঁধা থাকে সেটা হুকে লাগিয়ে জোয়ালের সাথে খাবার রেখে আনন্দের সাথে একটি সরাইখানায় ঢুকে যান পান করতে। শহরে সেদিন কোন উৎসব চলছিল তাই সেখানে পুরুষ, মহিলা এবং শিশুরা চারপাশ দিয়ে হাঁটাচলা করছিল। গালোনিয়া কে অন্যথায় অন্য বলদরা বোকা বলে জানত, সে কোনো কিছুর দিকে তাকাত না, পরিবর্তে, সে মনোযোগ দিয়ে নিজের খাবার খেতো, পেট ভরে খাবার খেতো, অনন্দে খানিকটা ডাক ছাড়ত তারপর শুয়ে পরে আরাম করে জাবর কাটত। আশপাশ দিয়ে হেঁটেচলা মানুষদের প্রতি তার কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। সে কেবল ঘুমাতে ঘুমাতে আরাম করে জাবর কাটছিল (দুঃখের বিষয় সে মানুষ ছিল না, কোনো উচ্চ পদ ধরণের সমস্ত গুন তার ছিল)। কিন্তু সিভোনিয়া কিছুই খেতে পারছিল না। তার স্বপ্নালু চোখ এবং মুখের দুঃখের অভিব্যক্তি এক নজর দেখলেই বোঝা যেতো একজন চিন্তাবিদ, এবং মধুর ব্যক্তিত্বপূর্ণ প্রাণী। যারা তাকে পেরেই যাচ্ছিল সেই সব লোকেরা, সার্বিয়রা, তাদের নাম, তাদের জাতি সম্পর্কে গর্বিত ছিল এবং গর্ব তাদের আচরণ এবং গতিতে প্রতিফলিত হচ্ছিল। সিভোনিয়া এই সব লক্ষ করছিল এবং হঠাৎ এই প্রচণ্ড অন্যায়ের কারণে তার প্রাণ দুঃখে ও বেদনাতে ভরে ওঠে এবং সে এই দৃঢ় আকস্মিক ও শক্তিশালী আবেগে ডুবে যেতে পারছিল না; তাই সে দুঃখে ডাকতে শুরু করে এবং তার চোখ দিয়ে জল ঝরতে শুরু করে। এবং তার এই প্রচণ্ড বেদনায় সিভোনিয়া ভাবতে শুরু করে:

– আমার মালিক এবং তার সঙ্গী, সার্বিয়দের এত গর্ব কিসের? কেন তারা নিজেরদের মাথা উঁচু করে আমার লোকদের দিকে অহংকার ও অবজ্ঞার চোখে দেখে? তারা তাদের মাতৃভূমির জন্য গর্বিত, গর্বিত যে করুণাময় ভাগ্য তাদের এখানে সার্বিয়াতে জন্ম গ্রহণ করতে দিয়েছে। আমার মা ও এখানে সার্বিয়াতে আমায় জন্ম হয়েছে সার্বিয়া কেবল আমার জন্মভূমিই নয়, আমার পিতারও এবং আমার পূর্বপুরুষরাও ঠিক ওদের মতোই একসাথে, পুরানো স্লাভিক জন্মভূমি থেকে এই দেশে এসেছিলেন। এবং তবুও আমাদের মধ্যে কোনও গরু এটিকে নিয়ে গর্ববোধ করেনি, আমরা কেবল ভারি ওজন চড়াই বেয়ে উপরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে গর্ব বোধ করি; আজ পর্যন্ত কোনো বলদ কোন জার্মান বলদ কে বলেনি: “আমার থেকে কি চাও, আমি একটি সার্বিয় বলদ, আমার জন্মভূমি সার্বিয়ার গর্বিত দেশ, আমার পূর্বপুরুষরা সেখানে বাছুর ছিল এবং এখানে এই দেশে আমার পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে।“ ঈশ্বরের দোহাই, আমরা কখনও এই নিয়ে গর্ব করিনি, এই কথা আমাদের মাথায় কখনও আসেনি, কিন্তু এরা এ বিষয় গর্বিত। অদ্ভুত মানুষ!

এই চিন্তা করতে করতে, বলদটি দুঃখের সাথে মাথা নাড়ে, তার গলার ঘন্টা বাজতে থাকে ও জোয়ালে শব্দ হয়। গালোনিয়া চোখ খোলে তার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বলল:

– আমার তুমি আজেবাজে কথা বলছ! আরে বোকা খাবার খাও, মোটা হও, তোমার পাঁজর বেরিয়ে আছে; যদি ভেবে কিছু ভালো হত তাহলে মানুষ বলদের ভাবনা চিন্তা করার দায়িত্ব দিত না। কোনওভাবেই আমরা এত ভাগ্যবান হতাম না!

সিভোনিয়া নিজের বন্ধুর দিকে করুণার সাথে তাকাল, তার দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং নিজের চিন্তায় ডুবে গেল।

– তারা তাদের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে গর্বিত। তাদের রয়েছে কসোভোর মাঠ, কসোভোর যুদ্ধ। এটা কি কোন গর্বের কথা, আমার পূর্বপুরুষরা কি তখন খাবার এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাড়ি টানেনি? আমরা না থাকলে মানুষদের এই কাজ করতে হত। তারপরে তুর্কিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল। একটি দুর্দান্ত, মহৎ প্রচেষ্টা, কিন্তু সেই সময়ে কে ছিল? এই নাক উঁচু বোকার দল, আমার সামনে দিয়ে গর্ব করে হেঁটে যাচ্ছে এদের বুদ্ধিতেই যেন সব হয়ছিল, বিদ্রোহ কে শুরু করে? এখানে, আমার মালিক কে উদাহরণ হিসাবে ধরুন। তিনিও এই বিদ্রোহ নিয়ে খুব গর্বিত, বিশেষত তাঁর প্রপিতামহ একজন সত্যিকারের বীরের মতন মুক্তিযুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন সে বিষয়। কিন্তু এতে আমার মালিকের কি অবদান আছে? তার প্রপিতামহের অধিকার আছে গর্ব করার, কিন্তু মালিকের কোনো অধিকার নেই; তার প্রপিতামহ মারা গিয়েছিলেন যাতে তার বংশধররা মুক্ত হতে পারেন। সুতরাং মালিক মুক্তি পেয়েছেন, কিন্তু মালিক এই মুক্তি কিভাবে কাজে লাগিয়েছে? তিনি অন্যদের বেড়া চুরি করেন, গাড়িতে বসেন এবং আমাকে বেড়া এবং তাকে টেনে আনতে হয়ছে যখন লাগাম ধরে ঘুমাচ্ছিল। এখন সে বেড়া বিক্রি করে দিয়ছে, মদ পান করছেন, আর অতীতের গর্ব করা ছাড়া আর কিছুই করছেন না। আমার পূর্বপুরুষদের মধ্যে কতজন বিদ্রোহের সময় যোদ্ধাদের খাবার খাওয়াতে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন? এবং আমার পূর্বপুরুষরা কি সেই সময় অস্ত্র, কামান, খাবার, গোলাবারুদ টেনে নিয়ে যাননি? এবং তবুও আমরা তাদের অবদানের জন্য গর্ববোধ করি না কারণ আমরা বদলায়নি; আমাদের পূর্বপুরুষরা যেমন ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যেত আমরাই ঠিক তাই করি।

তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কষ্ট এবং পাঁচশত বছরের দাসত্ব নিয়ে গর্বিত। আমার আত্মীয়রা আমাদের অস্তিত্ব জুড়ে কষ্ঠ ভোগ করেছে এবং আজও আমরা কষ্ট ভোগ করেছি এবং ক্রীতদাস হয়ে আছি, এবং তবুও আমরা প্রতিবাদে চিৎকার করি না। তারা বলে যে তুর্কিরা তাদের উপর অত্যাচার করেছিল, তাদের হত্যা করেছিল; কিন্তু আমার পূর্বপুরুষদের সার্ব এবং তুর্ক দুই পক্ষই জবাই করেছে, রান্না করেছে, এবং সমস্ত ধরণের নির্যাতন চালিয়ে গেছে।

তারা তাদের ধর্ম নিয়ে গর্বিত এবং তবুও তারা কিছুই বিশ্বাস করে না। আমার এবং আমার লোকরা কি দোষ করেছে যে আমরা খ্রিস্টান হওয়ার যোগ্য নয়? তাদের ধর্ম তাদের বলে “তুমি চুরি কোরো না” এবং সেখানে আমার মাস্টার চুরি করেছেন এবং চুরির টাকায় মদ খাচ্ছেন। তাদের ধর্ম তাদের প্রতিবেশীদের ভালবাসতে নির্দেশ দেয় কিন্তু তারা শুধু একে ওপরের ক্ষতি করে। তাদের জন্য, সর্বোত্তম পুরুষ, পুণ্যের উদাহরণ, হ’ল সেই ব্যক্তি যিনি কোনও ক্ষতি করেন না এবং অবশ্যই কেউ ক্ষতি না করা বাদ দিয়ে কাউকে ভাল কিছু করার কথা বলে না। এতটাই নিচু তাদের গুণাবলীর উদাহরণ, ক্ষতি কর না, এইরকম অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার।

বলদটি গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবং দীর্ঘশ্বাসের সাথে রাস্তার ধুলো ওড়ে।

– তাই – বলদটি দুঃখের কথা ভাবতে থাকলো- এক্ষেত্রে আমি এবং আমার আত্মীয়রা ওদের সবার চাইতে ভালো নয় কি? আমি কখনও কাউকে খুন করিনি, কাউকে কখনও অপমান করিনি, কিছু চুরি করিনি, কোন নিরীহ মানুষকে জনগনের সেবা থেকে বরখাস্ত করিনি, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোনও ঘাটতির কারণ হইনি, জাল দেউলিয়া ঘোষণা করিনি, আমি কখনও নিরীহ মানুষকে শিকল দিয়ে বেঁধে গ্রেপ্তার করিনি, আমি কখনও আমার বন্ধুদের নিন্দা করিনি, আমি কখনও আমার বলদ নীতির বিরুদ্ধে যাইনি, মিথ্যা সাক্ষ্য দিইনি, আমি কখনই প্রতিমন্ত্রী ছিলাম না এবং কখনই দেশের কোনও ক্ষতি করিনি, এবং আমি কেবল কোনও ক্ষতিই করিনি, এমনকি যারা আমার ক্ষতি করে তাদেরও ভালো করার চেষ্টা করি। আমার মা আমাকে জন্ম দিয়েছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে দুষ্ট লোকেরা আমার কাছ থেকে আমার মায়ের দুধ নিয়ে নেয়। ঈশ্বর বলদের জন্য ঘাস সৃষ্টি করেছেন, মানুষের জন্য নয় তবুও তারা আমাদের এ থেকে বঞ্চিত করে। তবুও, এই মারধোরের পাশাপাশি আমরা মানুষের জন্য তাদের গাড়ি টানি তাদের ক্ষেত চাষ করি তাদের খাবার খাওয়াই। এবং তবুও কেউ আমাদের যোগ্যতা স্বীকার করে না যা আমরা মাতৃভূমির জন্য করি …

– অথবা উদাহরণ হিসাবে উপবাস করা নেওয়া যাক; মানুষদের তাদের ধর্ম বলে সমস্ত ভোজের দিনে উপোস করতে তবুও তারা এই সামান্য উপবাস সহ্য করতেও রাজি নয়, যখন আমি এবং আমার স্বজাতিরা সারাজীবন উপবাস করে চলেছি, যখন থেকে মায়ের স্তনের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়।

বলদ মাথা নিচু করল যেন সে খুব উদ্বিগ্ন, তারপর আবার মাথা তুলল, ক্রোধের সাথে ফুঁসতে লাগল, মনে হচ্ছিল কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা তার মনে পরছিল, তাকে যন্ত্রণা দিচ্ছিল; হঠাৎ সে আনন্দে ডাকতে শুরু করে:

– ওহ, আমি এখন জানি, এটি হওয়া উচিত – এবং সে ভাবতে থাকে – এটাই হবে; তারা তাদের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে গর্বিত। আমার এই বিষয় মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সে ভাবতে থাকে কিছু বুঝতে পারে না।

– তাদের এই অধিকারগুলি কি? যদি পুলিশ তাদের ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেয় তবে তারা ভোট দেয় তাহলে আমরাও খুব সহজেই ডাক দিতে পারি: “হা…ম…বা!” এবং যদি তাদের আদেশ না দেওয়া হয় তবে তারা ঠিক আমাদের মতো ভোট দেওয়ার বা রাজনীতিতে ঢোকার সাহস করে না। সম্পূর্ণ নির্দোষ হলেও তারা কারাগারে  মারধোর খায়। তবুও আমরা আমাদের লেজ নাড়াই বা ডাক ছাড়ি কিন্তু এদের মধ্যে এমন সামান্য নাগরিক সাহসও নেই।

এবং এই মুহুর্তে, মালিক সরাইখানা থেকে বেরিয়ে আসে। মাতাল, হতবুদ্ধি, চোখ ঝাপসা, অবোধগম্য কিছু কথা বলতে বলতে টলতে টলতে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।

– শুধু দেখুন, এই গর্বিত প্রজন্ম কিভাবে তার পূর্বপুরুষ যে রক্ত দান করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল সেই স্বাধীনতা কিভাবে ব্যবহার করছেন? ঠিক আছে, আমার মালিক মাতাল এবং চোর, কিন্তু অন্যরা কিভাবে স্বাধীনতা ব্যবহার করে? কেবল অলস হয়ে তাদের পূর্বসূরীদের যোগ্যতায় গর্ব করে, সেই ক্ষেত্রে আমার যতটা অবদান এদেরও ঠিক ততটাই অবদান। বদল হিসেবে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মতো কঠোর পরিশ্রমী এবং প্রয়োজনীয় শ্রমিক হয়ে আছি। আমরা বলদ, তবে আমরা আজও আমাদের কঠোর পরিশ্রম এবং যোগ্যতা নিয়ে গর্ব করতে পারি।

বলদটি গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং জোয়াল লাগানোর জন্য নিজের ঘাড় প্রস্তুত করল।

 

বেলগ্রেডে, 1902।
“রাদ্বয়ে ডোমানোভিচ” প্রকল্পটির জন্য অনুবাদ করেছেন মৈত্রেয়ী মন্ডল, 2020।

Líder (3/3)

(pagina anterior)

Así pasa el primer día y fue seguido por más días con el mismo éxito. Nada de gran importancia pasó, sólo incidentes triviales: se tropezaron de cabeza en una zanja, luego en un barranco; rozaron con un setos y arbustos de moras; pisaron botellas; hubo varios brazos y piernas rotos; algunos sufrieron golpes en la cabeza. Pero soportaron todo este tormento. Algunos ancianos fueron abandonados en el camino para morir. “Hubieran muerto incluso si se hubieran quedado en casa, ¡sin mencionar el camino!” dijo el vocero, alentando a los otros a continuar. Unos cuantos niños pequeños, entre uno a dos años, también perecieron. Los padres estoicamente suprimieron su dolor porque era la voluntad de Dios. “Y con los niños pequeños, hay menos luto. Cuando son jóvenes el dolor es menor. Que Dios le conceda a los padres que nunca pierdan a sus hijos cuando alcancé la edad para casarse. Si los niños están destinados, es mejor que mueran temprano. ¡Entonces el dolor no es tan grande!” el vocero los volvió a consolar. Algunos enrollaron trapos alrededor de su cabeza y se pusieron compresas frías en sus moretones. Otros cargaban sus brazos en cabestrillos. Todos estaban harapientos y cortados. Sus ropas estaban colgando en jirones, pero aún así ellos siguieron adelante felizmente. Todo esto hubiera sido más fácil de aguantar si no se hubieran estado retorciendo del hambre tantas veces. Pero tenían que continuar.

Un día, algo más significante pasó.

El líder estaba caminando en frente, rodeado de los hombres más valientes del grupo. (Dos de ellos estaban desaparecidos y nadie sabía dónde estaban. Era la opinión común que habían traicionado la causa y se dieron a la fuga. En una oportunidad, el vocero dijo algo de su vergonzosa traición. Sólo algunos creyeron que los dos habían muerto en el camino, pero no manifestaron su opinión para no provocar a los demás). El resto del grupo estaba en fila detrás de ellos. De repente, apareció un excesivamente grande y profundo barranco – un verdadero abismo. La pendiente era tan empinada que no se atrevieron a dar un paso adelante. Incluso los más valientes se detuvieron y observaron al líder. Frunciendo el ceño, absorto en sus pensamientos con la cabeza hacia abajo, él siguió adelante audazmente, golpeteando su bastón en frente, primero a la derecha, luego a la izquierda con su forma característica. Muchos dijeron que lo hacía ver aún más digno. Él no vio a nadie ni dijo nada. No hubo un cambio de expresión en su rostro o un rastro de miedo, pero nadie se atrevió a advertirle al valiente y sabio líder. Dos pasos más adelante y estaba en la orilla. Todos se tropezaron con miedo mórbido y con los ojos bien abiertos. Los hombres más valientes estaban a punto de sujetar al líder, incluso si significaba un incumplimiento de disciplina, cuando él dio un paso, dos y se cayó en el barranco. Entonces surgió el desconcierto, los lamentos, los gritos; el miedo tomó la delantera.

– ¡Esperen hermanos! ¿Cuál es el apuro? ¿Está es la manera que cumplen su palabra? Tenemos que seguir a este sabio hombre porque él sabe lo que está haciendo. Debería estar loco para querer arruinarse a sí mismo. Adelante, ¡detrás de él! Este es el más grande y quizás el último riesgo, el último obstáculo. ¿Quién sabe? Quizás al otro lado de este barranco encontraremos una tierra magnífica y fértil que Dios predestinó para nosotros. Tal fue el consejo del vocero y dio dos pasos adelante, desapareciendo en el barranco. Los más valientes lo siguieron y luego todos los demás se desplomaron.

Hubo lamentos, quejidos, volteretas, gemidos en la empinada pendiente de este desfiladero. Uno podría jurar que nadie hubiera salido vivo, mucho menos sin heridas y en una pieza, pero la vida humana es tenaz. El líder era inusualmente suertudo. Se colgó de arbustos mientras caía así que no se hirió. Logró recobrar la compostura y trepar afuera. Mientras los lamentos, los gemidos y sollozos resonaban en la parte de abajo, se sentó inmóvil, pensativo en silencio. Algunos que fueron maltratados y estaban furiosos empezaron a maldecirlo pero él no le prestó atención. Aquellos que afortunadamente pudieron sostenerse a un arbusto o a un árbol mientras caían empezaron a tratar de escalar arduamente para salir. Algunos tenían la cabeza rota así que la sangre estaba manando de sus rostros. No había nadie en una sola pieza excepto por el líder. Todos le fruncieron el ceño y gruñeron en agonía pero él ni siquiera levantó su cabeza. ¡Estaba en silencio y asumió la pose reflexiva de un verdadero sabio!

Pasó un tiempo. El número de viajeros era cada vez más pequeño. Cada día les pasó factura. Algunos dejaron el grupo y se devolvieron.

Del gran número que empezó, sólo alrededor de veinte quedaban. Sus rostros demacrados y exhaustos reflejaban signos de desesperación, duda, fatiga y hambre, pero nadie dijo ni una palabra. Eran tan silenciosos como su líder y siguieron andando con paso pesado. Incluso el animoso líder sacudía su cabeza desesperadamente. El camino también era difícil.

Sus números disminuyeron diariamente hasta que fueron solo diez. Con caras abatidas, solo gruñían y se quejaban en vez de conversar.

Lucían más como inválidos que como hombres. Algunos tenían muletas. Algunos tenían sus brazos en cabestrillos asegurados alrededor de sus cuellos. En sus manos había numerosos vendajes y compresas. Incluso si hubieran querido hacer nuevos sacrificios, no podían hacerlos porque no había casi espacio en sus cuerpos para nuevas heridas.

Incluso los más fuertes y valientes entre ellos habían perdido la fe y la esperanza, pero igual siguieron luchando; así es, de alguna manera cojearon con gran esfuerzo, quejándose, sacudiéndose del dolor. ¿Qué más podían hacer si no podían regresar? ¿Tantos sacrificios y ahora iba a abandonar el viaje?

El atardecer cayó. Cojeando con muletas, repentinamente vieron que el líder ya no estaba en frente de ellos. Otro paso y todos caerían en otro barranco.

– ¡Oh mi pierna! ¡Oh mi mano! – resonaron los lamentos y los gruñidos. Una débil voz incluso maldijo al digno líder pero luego se silenció.

Cuando el sol salió, ahí estaba sentado el líder, igual como el día que lo eligieron. No había ni un cambio en su apariencia.

El vocero escaló hacia afuera del barranco, seguido de otros dos. Desfigurado y lleno de sangre, se voltearon para ver cuantos quedaban, pero eran los únicos. Su corazón se llenó de miedo mortal y desesperanza. La región era desconocida, montañosa, rocosa – no habían caminos en ningún lugar. Dos días antes se habían encontrado con un camino pero lo dejaron atrás. El líder los guió en esa dirección.

Pensaron en los múltiples amigos y familiares que habían muerto en este fantástico viaje. Una tristeza más fuerte que el dolor en sus extremidades lisiadas los abrumó. Habían presenciado su propia destrucción con sus propios ojos.

El vocero se acercó al líder y empezó a hablar con una cansada y temblorosa voz llena de dolor, desesperación y amargura.

– ¿Ahora a dónde vamos?

El líder estaba en silencio.

– ¿A dónde nos llevas y a dónde nos trajiste? Nos pusimos a nosotros y a nuestras familias en tus manos y te seguimos, dejando atrás nuestros hogares y las tumbas de nuestros ancestros con esperanza de que podríamos salvarnos de la ruina de una tierra estéril. Peor nos arruinaste de la peor manera. Habían doscientas familias detrás de ti y ¡ahora mira cuantos hay!

– ¿No están todos aquí? – murmuró el líder sin levantar la cabeza.

– ¿Cómo puedes preguntar tal cosa? ¡Levante la cabeza y mire! ¡Cuente cuántos de nosotros quedamos en este desafortunado viaje! ¡Mire nuestro aspecto! Hubiera sido mejor haber muerto que estar lisiado de esta manera.

– ¡No puedo mirar!

– ¿Por qué no?

– Soy ciego.

Un silencio muerto.

– ¿Perdiste la vista durante este viaje?

– ¡Nací ciego!

Los tres bajaron sus cabezas de desolación.

El viento de otoño sopló siniestramente a través de las montañas y derribó las hojas marchitas. Una niebla rondaba alrededor de las colinas y a través del frío y brumoso aire agitaba las alas de los cuervos. Un graznido repugnante resonó. El sol se estaba escondiendo detrás de las nubes, las cuales estaban rodando y alejándose rápidamente más y más lejos.

Los tres se miraban entre sí completamente horrorizados.

– ¿A dónde podemos ir ahora? – murmuró uno con seriedad.

– ¡No sabemos!

 

En Belgrado, 1901.
Para el Proyecto “Radoje Domanović” traducido por Fabiola Rangel, 2019.

Líder (2/3)

(pagina anterior)

Al día siguiente, todas las personas que tenían el valor de ir en un largo viaje se reunieron. Más de doscientas familias fueron al lugar designado. Sólo algunos permanecieron en casa para cuidar del viejo asentamiento.

Ciertamente, era triste ver esta masa de personas miserables a quienes el amargo infortunio forzó a abandonar la tierra donde nacieron y donde están las tumbas de sus ancestros. Sus rostros estaban demacrados, desgastados y quemados por el sol. El sufrimiento de muchos laboriosos años mostró su efecto en ellos y transmitía una imagen de miserable y amarga desesperación. Pero en este preciso instante, estaban viendo el primer destello de esperanza – ciertamente mezclado con nostalgia.  Una lágrima cayó por el arrugado rostro de muchos hombres mayores, quienes suspiraron desesperadamente y sacudieron su cabeza con un mal presentimiento. Ellos preferirían quedarse por un tiempo para poder morir entre esas rocas en vez de buscar una mejor patria. Muchas de las mujeres se lamentaron y se despidieron de las tumbas de sus muertos que estaban dejando.

Los hombres estaban tratando de ser valientes y estaban gritando – Bueno, ¿ustedes quieren seguir muriéndose de hambre esta tierra condenada y viviendo en estas chozas? En realidad, ellos hubieran preferido llevarse a toda la región maldita y las casas desmoronadas con ellos de ser posible.

Se escuchaba el ruido y los gritos usuales que había en toda masa de gente. Tantos hombres como mujeres estaban inquietos. Los niños chillaban mientras eran mecidos en la espalda de sus madres. Incluso el ganado estaba un poco impaciente. No habían muchas reses, un ternero por aquí y uno por allá, y luego un magro y peludo jamelgo con una gran cabeza y piernas gordas, sobre el cual estaban cargando alfombras viejas, bolsas e incluso dos sacos sobre la silla de montar, así que el pobre animal se mecía bajo el peso. Sin embargo, logró mantenerse de pie y relinchaba de vez en cuando. Otros estaban cargando burros; los niños estaban jalando perros con correas. Hablando, gritando, maldiciendo, lamentándose, llorando, ladrando, relinchando – Abundaba de todo. Incluso un burro rebuznando de vez en cuando. Pero el líder no pronunció ni una palabra, como si todo el asunto no fuera de su incumbencia. ¡Un verdadero hombre sabio!

Él solo se sentó pensativo y en silencio, con su cabeza hacia abajo. De vez en cuando escupía, eso era todo. Pero a cuenta de su extraño comportamiento, su popularidad creció tanto que todos habrían pasado a través del fuego y el agua, como ellos decían, por él. Se podía escuchar la siguiente conversación:

– Deberíamos estar felices de haber encontrado semejante hombre. De haber seguido adelante sin él, ¡Dios no lo permita! Habríamos perecido. Él tiene inteligencia verdadera, ¡te lo digo! Está callado. ¡Todavía no ha dicho nada! – dijo alguien mientras miraba al líder con respeto y orgullo.

– ¿Qué debería decir él? Quien sea que hable demasiado no piensa mucho. Un hombre inteligente, ¡eso es seguro! Él solo reflexiona y no dice nada, – agregó otro y él también observó al líder con asombro.

– ¡No es fácil guiar a tantas personas! Tiene que recopilar sus pensamientos porque tiene un gran trabajo en sus manos, – dijo nuevamente el primero.

Llegó el momento de empezar. Sin embargo, ellos esperaron un rato para ver si alguien cambiaba de parecer y venía con ellos, pero en vista de que nadie vino, no se quedaron por más tiempo.

– ¿No deberíamos irnos? – le preguntaron al líder.

Él se levantó sin decir una palabra.

Los hombres más valientes se agruparon inmediatamente alrededor de él para estar a la mano en caso de peligro o de una emergencia.

El líder, frunciendo el ceño, con la cabeza baja, dio unos cuantos pasos, balanceando su bastón en frente de él de una forma digna. El grupo se movió en conjunto detrás de él y gritaron varias veces, “¡Larga vida a nuestro líder!” dió unos cuantos pasos más y chocó contra una cerca en frente del ayuntamiento. Ahí, naturalmente, se detuvo; así que el grupo se detuvo también. El líder dió un paso hacia atrás y golpeó su bastón contra la cerca unas cuantas veces.

– ¿Qué quiere que hagamos? – preguntaron.

Él no dijo nada.

– ¿Qué deberíamos hacer? ¡Derribar la cerca! ¡Eso es lo que haremos! ¿No ven que nos está mostrando con su bastón lo que hay que hacer? – gritaron aquellos que estaban parados alrededor del líder.

– ¡Hay una puerta! ¡Hay una puerta! – gritaron los niños y apuntaron a la puerta que estaba al frente de ellos.

– Shh, niños, ¡hagan silencio!

– Que Dios nos ayude. ¿Qué está pasando? – unas cuantas mujeres se hicieron la cruz.

– ¡Ni una palabra! Él sabe que hacer. ¡Destruyan la cerca!

En un instante la cerca había sido destruida como si nunca hubiese estado ahí.

Ppasaron por la cerca.

Apenas habían avanzado cien pasos cuando el líder se tropezó con un gran arbusto con espinas y se detuvo.

Con gran dificultad logró salir y luego empezó a golpetear su bastón en todas las direcciones. Nadie se movió.

– ¿Y cuál es el problema ahora? – gritaron aquellos en la parte de atrás.

– ¡Corten el arbusto! – gritó uno de los que estaba alrededor del líder.

– ¡Ahí está el camino, detrás de los arbustos con espinas! ¡Ahí está!  – gritaron los niños e incluso muchas personas en la parte de atrás.

– ¡Ahí está el camino! ¡Ahí está el camino! – se burlaron aquellos que estaban alrededor del líder, imitándolos con enojo. – ¿Y cómo nosotros hombres ciegos podemos saber adónde nos está guiando? No todo el mundo puede dar órdenes. El líder sabe cual es la mejor ruta y la más directa. ¡Corten el arbusto espinoso!

Se apuraron a despejar el camino.

– Auch, – lloró alguien que se clavó una espina en la mano y alguien que fue golpeado en el rostro por una rama de mora.

– Hermanos, no pueden obtener algo de nada. Tienen que esforzarse un poco para triunfar, – respondió el más valiente del equipo.

Ellos pasaron a través del arbusto luego de mucho esfuerzo y siguieron adelante.

Luego de deambular un poco más, se encontraron con un montón de troncos. Estos también los echaron a un lado y continuaron.

Muy poco camino fue recorrido en el primer día porque tuvieron que superar varios obstáculos similares. Y todo esto con poca comida porque algunos habían llevado solamente pan seco y un poco de queso mientras que otros sólo tenían pan para satisfacer su hambre. Algunos no tenían nada en absoluto.  Afortunadamente, era verano así que encontraron árboles frutales por aquí y por allá.

Así, aunque en el primer día recorrieron un pequeño trecho, se sentían muy cansados. No aparecieron grandes peligros y tampoco hubo accidentes. Naturalmente, en una iniciativa tan grande los siguientes eventos deben ser considerados como pequeñeces: una espina se atascó en el ojo izquierdo de una mujer, el cual se cubrió con un paño húmedo; un niño se precipitó contra un tronco y quedó cojeando; un anciano se tropezó con un arbusto de moras y se torció el tobillo; luego de que le aplicaron cebolla molida, el hombre soportó valientemente el dolor y, apoyándose en su bastón, cojeaba valerosamente detrás del líder. (Para estar seguros, varios dijeron que el anciano estaba mintiendo sobre su tobillo, que solo estaba fingiendo porque estaba ansioso por volver.) Rápidamente, sólo habían algunos que no tenían una espina en su brazo o el rostro armado. Los hombres lo soportaron con heroísmo mientras que las mujeres maldijeron el momento en que salieron y los niños lloraban, naturalmente, porque no entendían que todo ese esfuerzo y dolor sería recompensado en abundancia.

Para la felicidad y alegría de todos, nada le pasó al líder. Francamente, si dijéramos la verdad, estaba bastante protegido, pero aun así, el hombre era simplemente suertudo. En la primera noche en el campamento, todos rezaron y le agradecieron a Dios que el viaje del viaje había sido exitoso y que nada, ni siquiera la más mínima desgracia, le había pasado al líder. Entonces, uno de los hombres más valientes empezó a hablar. Su rostro había sido arañado por un arbusto de moras, pero él simplemente no le prestó atención.

– Hermanos,  – comenzó – un exitoso día de viaje ha quedado detrás de nosotros. Gracias a Dios. El camino no es fácil, pero tenemos que aguantar hasta el final porque todos sabemos que este difícil camino nos guiará a la felicidad. Que el poderoso Dios proteja a nuestro líder de cualquier daño para que pueda continuar guiándonos con éxito.

– ¡Mañana perderé mi otro ojo si las cosas siguen como hoy! – dijo una de las mujeres, furiosa.

– ¡Auch, mi pierna! – gritó el anciano, motivado por el comentario de la mujer.

Los niños siguieron quejándose y lloriqueando y a las madres se les dificultó silenciarlos para que el vocero hablará.

– Sí, perderás tu otro ojo, – explotó de ira, – ¡y que pierdas ambos! No es una gran desgracia para una mujer perder ambos ojos por una causa tan grande. ¡Vergüenza! ¿Nunca piensas en el bienestar de tus hijos? ¡Dejemos que la mitad de nosotros fallezca en esta labor! ¿Qué diferencia hace? ¿Qué es un ojo? O ¿qué uso tienen tus ojos cuando hay alguien que ve por nosotros y nos guía a la felicidad? ¿deberíamos abandonar nuestro compromiso por un tu ojo y por la pierna de un anciano?

-¡Está mintiendo! ¡El anciano está mintiendo! él sólo finge para que pueda volver – resonaron voces de todas partes.

– Hermano, quien sea que no quiera continuar – dijo el vocero nuevamente – dejemos que regrese en vez de quejarse y sembrar cizaña en el resto de nosotros. Por lo que a mí respecta, ¡voy a seguir a nuestro sabio líder mientras todavía quede algo de mí!

El líder estaba callado.

Todo el mundo empezó a verlo y a susurrar:

– ¡Está absorto en sus pensamientos!

– ¡Un hombre sabio!

–¡Miren su frente!

– ¡Siempre está frunciendo el ceño!

– ¡Serio!

– ¡Él es valiente! Eso se ve en todo su ser.

– ¡Puedes decirlo de nuevo! Cercas, troncos, zarzas – se abre paso a través de todo. Seriamente golpetea su bastón, no dice nada y tienes que adivinar que tiene en la mente.

(página siguiente)

Líder (1/3)

– Hermanos y amigos, he escuchado todos sus discursos, así que les pido que ahora me escuchen a mí. Todos nuestros debates y discusiones no valen nada mientras que sigamos en esta región estéril. Nada ha podido crecer en este suelo arenoso y en estas rocas, incluso cuando había años lluviosos, ni de qué hablar en esta sequía como ninguno de nosotros habíamos visto antes. ¿Cuántas veces más nos reuniremos de esta manera a hablar en vano? El ganado se está muriendo sin comida y dentro de poco, nosotros y nuestros hijos también moriremos de hambre. Tenemos que encontrar otra solución que sea mejor y más sensata. Creo que sería mejor irnos de esta tierra árida y salir al mundo para encontrar un suelo mejor y más fértil porque simplemente no podemos seguir viviendo así.

Así, un habitante de una provincia infértil habló una vez con una cansada voz en una reunión. Dónde y cuándo fue eso, no nos incumbe ni a usted ni a mí, creo. Es importante creerme que pasó en algún lugar de alguna tierra hace mucho tiempo, y eso es suficiente. Para ser honesto, en un momento pensé que de alguna forma inventé toda esta historia, pero poco a poco me liberé de esta desagradable ilusión. Ahora, creo firmemente que voy a contar lo que realmente pasó y debió haber pasado en alguna parte y en algún momento, y que de ninguna manera pude haberlo inventado.

Los oyentes, con rostros pálidos y demacrados y miradas vacías, sombrías y casi incomprensibles con sus manos bajo sus cinturones, parecían cobrar vida ante estas sabias palabras. Cada uno ya se estaba imaginando que estaba hablando de un tipo de tierra mágica y paradisíaca donde la recompensa del agotador trabajo sería una abundante cosecha.

– ¡Así es! ¡Así es! – susurraban las voces exhaustas desde todos los lados.

– ¿Este lugar está cer… ca…? – un murmuro alargado se escuchó de una esquina.

– ¡Hermanos! – empezó a decir otro con una voz bastante fuerte. Tenemos que seguir este consejo inmediatamente porque no podemos seguir así por más tiempo. Nos hemos esforzado y cansado, pero todo ha sido en vano. Hemos sembrado semillas que pudieron haber servido para la comida, pero llegaron las inundaciones y se llevaron las semillas y el suelo lejos de las laderas, dejando solamente la roca descubierta. ¿Deberíamos quedarnos aquí por siempre y trabajar desde la mañana hasta la noche sólo para seguir hambrientos y sedientos, desnudos y descalzos? Tenemos que salir y buscar tierras mejores y más fértiles, donde el trabajo duro producirá abundantes cultivos.

– ¡Vamos! ¡Vamos inmediatamente porque este lugar no es apto para seguir viviendo!

El susurro se levantó y cada uno empezó a alejarse, sin pensar hacia donde iban.

– ¡Esperen, hermanos! ¿A dónde van? – El primer orador empezó a hablar de nuevo – Claro, debemos ir, pero no así. Tenemos que saber a dónde vamos. De otra forma, podemos terminar en una situación peor en vez de salvarnos. Sugiero que elijamos un líder a quien todos debemos obedecer y quien nos mostrará el mejor camino.

– ¡Elijamos! Escojamos a alguien ahora mismo, – se escuchó en todas partes.

La discusión se agitó, tornándose un verdadero caos. Todos hablaban y nadie escuchaba o podía escuchar. Empezaron a separarse en grupos, cada persona mascullando para sí mismo y entonces incluso los grupos se separaron. En parejas, empezaron a tomarse de los brazos, hablando, tratando de probar algo, jalándose las mangas entre sí y haciendo señas con sus manos para que hicieran silencio. Entonces, todos ellos se volvieron a reunir, todavía hablando.

– ¡Hermanos! – de repente una fuerte voz resonó y ahogó a todas las otras voces roncas y apagadas. – No podemos llegar a ningún tipo de acuerdo así. Todo el mundo está hablando y nadie escucha. ¡Escojamos un líder! ¿Quién entre nosotros podemos escoger? ¿Quién entre nosotros ha viajado lo suficiente para conocer todos los caminos? Todos nos conocemos bien y, sin embargo, yo no me pondría a mí mismo o a mis hijos bajo el liderazgo de una persona aquí. En su lugar, díganme ¿quién conoce a ese viajero por ahí que ha estado sentado en la sombra de la orilla del camino desde esta mañana?

Se hizo el silencio. Todos voltearon hacia el extraño y lo evaluaron de la cabeza a los pies.

El viajero, de edad media, con un rostro sombrío el cual era apenas visible por su barba y cabello largo, estaba sentado y se mantenía en silencio como estaba antes, absorto en sus pensamientos y golpeando su gran bastón cada cierto tiempo.

– Ayer vi al mismo hombre con un jovencito. Estaban agarrándose de las manos y bajando por la calle. Y anoche, el joven dejó la aldea, pero el extraño se quedó aquí.

– Hermanos, olvidemos estas tontas pequeñeces para no perder tiempo. Quien sea que sea, ha venido de lejos ya que ninguno de nosotros lo conoce y él definitivamente conoce el camino más corto y el mejor para guiarnos. Mi opinión es que es un hombre muy sabio porque está sentado ahí en silencio y pensando. Cualquier otra persona ya habría husmeado en nuestros asuntos diez veces o más o habría empezado una conversación con uno de nosotros, pero él ha estado sentado ahí todo este tiempo bastante solo y sin decir nada.

– Por supuesto, el hombre está sentado en silencio porque está pensando en algo. No puede ser de otra manera solamente que él es muy inteligente – coincidieron los otros y empezaron a examinar nuevamente al extraño. Cada uno había descubierto un rasgo brillante en él, una prueba de su inteligencia extraordinaria.

No pasaron mucho más tiempo hablando, así que finalmente todos acordaron que sería mejor preguntarle a este viajero – quien les parecía que Dios había mandado para guiarlos en el mundo para buscar un mejor territorio y un suelo más fértil. Él debería ser su líder y ellos lo escucharían y lo obedecerían sin dudarlo.

Escogieron diez hombres entre ellos, quienes irían donde el extraño para explicarle su decisión. Esta delegación era para mostrarle el miserable estado de su estado y pedirle que fuera su líder.

Así que los diez fueron y se arrodillaron humildemente. Uno de ellos empezó a hablar acerca del infructuoso suelo del área, acera de los años áridos y la miseria en la que todos se encontraban. Terminó de la siguiente manera:

– Estas condiciones nos obligan a dejar nuestros hogares y nuestra tierra y mudarnos en el mundo para hallar una patria mejor. Justo en este momento, cuando finalmente llegamos a un acuerdo, parece que Dios nos ha mostrado misericordia y te ha enviado a nosotros – tú, un sabio y digno extraño – y que tú nos guiarás y librarás de nuestra miseria. En nombre de todos los habitantes aquí, te pedimos que seas nuestro líder. A donde vayas, te seguiremos. Conoces los caminos y definitivamente naciste en una mejor y más feliz tierra. Te escucharemos y obedeceremos cada una de tus órdenes. Sabio extraño ¿aceptarías salvar tantas almas de la ruina? ¿Serías nuestro líder?

Durante todo este suplicante discurso, el sabio extraño no levantó la cabeza ni una sola vez. Permaneció en la misma posición que lo encontraron, durante todo ese tiempo. Tenía la cabeza baja, el ceño fruncido y no dijo nada.  Sólo golpeaba su bastón contra el piso de vez en cuando y – pensaba. Cuando terminó el discurso, murmuró brusca y lentamente sin cambiar su posición:

– ¡Lo haré!

– Entonces, ¿podemos ir contigo y buscar un mejor lugar?

– ¡Sí pueden! – continuó sin levantar la cabeza.

Afloró el entusiasmo y las expresiones de gratitud, pero el extraño no dijo nada al respecto.

Los diez le informaron a la multitud de su éxito, añadiendo que apenas ahora vieron la gran sabiduría que poseía el hombre.

– Él ni siquiera se movió del lugar o subió la cabeza por lo menos para ver quien estaba hablándole. Sólo se sentó en silencio y meditó. A toda nuestra charla y apreciación sólo pronunció cuatro palabras.

– ¡Un sabio de verdad! ¡Inteligencia excepcional! – gritaron felizmente de todas partes, afirmando que Dios mismo lo había enviado como un ángel del cielo para salvarlos. Todos estaban firmemente convencidos del éxito bajo tal líder, quien no sería perturbado por nada en el mundo. Y así se decidió partir al día siguiente al alba.

(página siguiente)

Marca

Tuve un terrible sueño. No me pregunto sobre el sueño en sí, sino sobre cómo hallé el coraje para soñar cosas tan terribles, cuando soy un tranquilo y respetable ciudadano, un obediente hijo de nuestra querida y afligida madre Serbia, tal como todos sus otros hijos. Por supuesto, sabes, si fuera una excepción en cualquier cosa, sería diferente; pero no, mi querido amigo, hago exactamente lo mismo que todos los demás y en cuanto a ser cuidadoso en todo, nadie puede igualarme en eso. Una vez vi un brillante botón del uniforme de un policía tirado en la calle y observé su mágico brillo, casi al punto de pasar, lleno de dulces recuerdos; cuando de repente, mi mano empezó a temblar y saltó en un saludo. Mi cabeza hizo una reverencia a la misma tierra y mi boca se extendió en una encantadora sonrisa que todos usábamos al saludar a nuestros superiores.

– La sangre noble corre en mis venas – ¡Eso es lo que es! – Esto es lo que pensé en el momento y miré con desdén al salvaje que iba de pasada quien pisaba imprudentemente el botón.

– ¡Salvaje! – dije amargado y escupí, y luego seguí caminando en silencio, consolado ante el pensamiento que tales brutos eran pocos; y estaba particularmente contento que Dios me dio un refinado corazón y la noble y cortés sangre de nuestros ancestros.

Bueno, ahora pueden ver el fantástico hombre que soy, para nada diferente de los otros respetables ciudadanos y no dudarás en preguntarte cómo cosas tan terribles y ridículas pudieron ocurrir en mis sueños.

Nada inusual me pasó ese día. Tuve una buena cena y luego me senté a limpiarme los dientes con un palillo por ocio; sorbiendo mi vino y luego, habiendo hecho valiente y consciente uso de mis derechos como ciudadanos, me fui a la cama y me llevé un libro conmigo para dormirme más rápido.

Pronto, el libro se resbaló de mis manos, por supuesto habiendo satisfecho mi deseo y terminado mis deberes, me quedé dormido como un inocente angelito.

De repente, me encontré en un estrecho y lodoso camino que guiaba a través de las montañas. Una fría y oscura noche. El viento aúlla entre ramas estériles y corta como una cuchilla cada vez que toca la piel desnuda. El cielo negro, soso y amenazante y la nieve, como el polvo, volando hacia tus ojos y golpeándote el rostro. No había ni un alma en ninguna parte. Me apuré y cada cierto tiempo me resbalaba hacia ambos lados en el camino fangoso. Me tambaleaba y caía y finalmente perdí mi camino, deambulaba – Dios sabe donde– y no es una corta y ordinaria noche, pero larga como un siglo, y camino todo el tiempo sin saber donde.

Así que caminé por muchos años y llegué a algún lugar, muy, muy lejano de mi país natal hasta una parte desconocida del mundo, a una tierra extraña la cual probablemente nadie conocía y que, estoy seguro, solo puede verse en mis sueños.

Rondando por la tierra, llegué a un gran pueblo donde vivían muchas personas. En el gran mercado había una gran multitud, había un terrible sonido sonando, lo suficientemente horrible como para que te explotara el tímpano. Me paré en una posada que estaba dando hacia el mercado y le pregunté al dueño porque tantas personas se habían congregado…

– Somos personas tranquilas y respetables – empezó su historia – somos leales y obedientes al alcalde.

– ¿El alcalde es su autoridad suprema? – pregunté interrumpiéndolo.

– El alcalde gobierna aquí y es nuestra autoridad suprema; le sigue la policía.

Me reí.

– ¿Por qué te ríes?… ¿No lo sabías?… ¿De dónde vienes?

Le dije cómo había perdido mi camino y que venía de una tierra distante – Serbia.

– ¡He escuchado del famoso país! – susurró el casero para sí mismo, mirándome con respeto y luego dijo en voz alta:

– Esa es nuestra forma – continuó – El anciano gobierna aquí con sus policías.

– ¿Cómo son sus policías?

– Bueno, hay muchos tipos de policías – varían dependiendo de su rango. Hay unos más distinguidos y otro menos distinguidos… Somos, tú sabes, personas tranquilas y respetables, pero todo tipo de vagabundos vienen de los alrededores, nos corrompen y nos enseñan cosas malvadas. Para distinguir a cada ciudadano de otras personas, el anciano dio una orden ayer que todos nuestros ciudadanos deben dirigirse al ayuntamiento, donde cada uno de nosotros tendrá su frente marcada. Es por esto que tantas personas se juntaron: para poder encontrar orientación sobre qué hacer.

Me encogí de brazos y pensé que debería escapar de esta extraña tierra tan rápido como pudiera, porque yo, aunque fuera serbio, no estaba acostumbrado a tal exhibición de espíritu de gallardía y ¡estaba un poco incómodo por esto!

El dueño se rió con benevolencia, me dio un golpecito en el hombro y dijo orgullosamente:

– Oh, extraño, ¿esto es suficiente para asustarte? ¡Con razón tienes que ir tan lejos para encontrar un coraje como el nuestro!

– Y, ¿qué quieres hacer? – pregunté tímidamente.

–  ¡Que pregunta! Verás lo valiente que somos. Te diré, tienes que ir muy lejos para encontrar un coraje como el nuestro. Has viajado lejos y vastamente y has visto el mundo, pero estoy seguro de que nunca has visto mejores héroes que nosotros. Déjanos ir ahí juntos. Debo apurarme.

Estábamos a punto de ir cuando escuchamos, en frente de la puerta, el chasquido de un látigo.

Eché un vistazo hacia afuera: había una escena – un hombre con una brillante capucha de tres cuernos en su cabeza, vestido con un traje con un estampado llamativo, estaba montado en la espalda de otro hombre vestido con ropas costosas de corte civil y común. Se paró en frente de la posada y el jinete se bajó.

El dueño salió, hizo una reverencia en el piso y el hombre en el traje con estampado llamartivo entró en la posada a una mesa decorada especialmente. El que estaba con ropa civil se quedó en frente de la posada y espero. El dueño también hizo una referencia baja hacia él.

– ¿De qué se trata todo esto? – le pregunté al dueño, profundamente confundido.

– Bueno, el que entró en la posada es un policía de rango alto y este hombre es uno de nuestros ciudadanos más distinguidos, muy rico y un gran patriota, – susurró el dueño.

– Pero ¿por qué deja al otro montarse en su espalda?

El dueño me sacudió su cabeza y nos hicimos a un lado. Me dedicó una sonrisa despectiva y dijo:

– ¡Lo consideramos un gran honor que rara vez es merecido! – Además me dijo una gran cantidad de cosas, pero estaba emocionado de que no pudiera entenderlas. Pero escuché claramente lo que dijo al final: – ¡Es un servicio a nuestro país que no todas las naciones han aprendido a apreciar!

Fuimos a la reunión y la elección del presidente ya estaba tomando lugar.

El primer grupo pusó a un hombre llamado Kolb, si recuerdo el nombre correctamente, como su candidato para el puesto; el segundo grupo quería a Talb y el tercero tenía su propio candidato.

Había una aterradora confusión; cada grupo quería poner a su propio hombre.

– Creo que no tenemos un hombre mejor que Kolb para el puesto de una reunión tan importante, – dijo una voz del primer grupo, – porque todos conocemos muy bien sus virtudes como ciudadano y su gran valentía. No creo que nadie entre nosotros puede jactarse de haber sido montado tan frecuentemente por las personas realmente importantes…

– Quien eres tu para hablar de eso, – chilló alguien del segundo grupo. – ¡Nunca te ha montado un subalterno de la policía!

– Sabemos cuales son tus virtudes, – chilló alguien del tercer grupo. – ¡nunca podrías recibir ni un simple golpe del látigo sin gritar!

– ¡Hermanos, dejemos esto claro! – empezó Kolb. – Es verdad que personas eminentes estaban cabalgando en mi espalda ya hace diez años; ellos me dieron latigazos y nunca he llorado, pero puede ser que hay otros más dignos entre nosotros. Quizás hay unos mejores más jóvenes.

– No, no, – chillaron sus simpatizantes.

– ¡No queremos escuchar de honores anticuados! Han pasado diez años desde que Kolb fue montado, – gritaron las voces del segundo grupo.

– La sangre joven está tomando el poder, dejen que los perros viejos mastiquen huesos viejos, – dijo alguien del tercer grupo.

De repente no hubo más ruido; las personas se movieron hacia atrás, hacia la izquierda y derecha, para abrir el camino y vi un hombre joven alrededor de 30 años. Mientras se acercaba, todas las cabezas hicieron una reverencia baja.

– ¿Quién es ese? – le susurré al dueño.

– Él es el líder popular. Un hombre joven, pero muy prometedor. En sus primeros días se jactaba de haber cargado al alcalde en su espalda tres veces. Él es más popular que todos los demás.

– ¿Ellos quizás los elijan? – pregunté.

– Eso es más que certero, porque en cuanto a todos los otros candidatos – todos son mayores, el tiempo los ha sobrepasado, mientras que el alcalde cabalgo un poco en su espalda ayer.

– ¿Cuál es su nombre?

– Kleard.

Le dieron un lugar de honor.

– Yo creo, – la voz de Kolb rompió el silencio, – que no podemos encontrar un mejor hombre para esta posición que Kleard. Es joven, pero ninguno de nosotros los mayores es su igual.

– ¡Escuchen, escuchen!… ¡Larga vida a Kleard!… – todas las voces clamaron.

Kolb y Talb lo llevaron al lugar del presidente. Todos hicieron una profunda reverencia y hubo silencio absoluto.

– Gracias, hermanos, por su gran consideración y este honor que todos me han otorgado unánimemente. Sus esperanzas, que ahora descansan en mí, son demasiado halagadoras. No es fácil dirigir el barco de los deseos de la nación a través de días tan trascendentales, pero haré todo lo que está en mi poder para justificar su confianza, para representar honestamente su opinión y para merecer tan elevado aprecio por mí. Gracias, mis hermanos, por elegirme.

– ¡Hurra! ¡Hurra! ¡Hurra! – los votantes vociferaron de todas partes.

– Y ahora hermanos, espero que me permitan decir unas cuantas palabras acerca de este importante evento. No es fácil sufrir tales dolores, tales tormentos como los que nos aguardan; no es fácil que nos marquen la frente con hierro caliente.  En efecto, no – hay dolores que no todos los hombres pueden soportar. Dejen que los cobardes tiemblen, déjenlos estremecerse de miedo, pero no debemos olvidar ni por un momento que somos hijos de valientes ancestros, que sangre noble recorre nuestras venas, la heroica sangre de nuestros abuelos, los grandes caballeros que solían morir sin mover ni un pelo por la libertad y por el bien de todos nosotros, su progenie. Nuestro sufrimiento es ligero, si pensamos en su sufrimiento – ¿Deberíamos comportarnos como miembros de una raza degenerada y cobarde ahora que estamos viviendo mejor que nunca antes? Cada patriota verdadero, todos los que no quieren avergonzar a nuestra nación ante todo el mundo, soportará el dolor como un hombre y un héroe.

– ¡Escuchen! ¡Escuchen! ¡Larga vida a Kleard!

Después de Kleard, hubo varios fervientes oradores; animaron a las personas asustadas y repitieron más o menos lo que dijo Kleard.

Entonces, un pálido y cansado anciano, con un rostro arrugado, su cabello y barba son blancos como la nieve, pidió hablar. Sus rodillas estaban sacudiéndose por su edad, sus manos temblaban, su espalda estaba doblada. Su voz estaba temblorosa, sus ojos estaban brillantes de lágrimas.

– Niños, – empezó, con lágrimas bajando por sus blancas y arrugadas mejillas y cayendo en su barba blanca, – Soy miserable y pronto moriré, pero me parece que es mejor que no permitan tal humillación ante ustedes. ¡Tengo cien años y he vivido toda mi vida sin eso…! ¿Por qué debería el sello de la esclavitud ser grabado ahora en mi blanca y agotada cabeza…?

– ¡Acaben a ese viejo canalla! – chilló el presidente.

– ¡Acaben con él! – gritaron los otros.

– ¡El viejo cobarde!

– En vez de alentar a los jóvenes, ¡está asustando a todo el mundo!

– ¡Debería estar avergonzado de sus canas! Ha vivido lo suficiente y todavía puede estar asustado – nosotros que somos jóvenes somos más valientes…

– ¡Acaben con el cobarde!

– ¡Sáquenlo!

– ¡Acábenlo!

Una molesta multitud de valientes patriotas jóvenes corrieron hacia el anciano y empezaron a empujarlo, jalarlo y patearlo ante su furia.

Finalmente, lo dejaron ir por su edad – si no lo hubieran apedreado vivo.

Todos prometieron ser valientes mañana y mostrarse dignos del honor y la gloria de su nación.

Las personas se fueron de la reunión en un excelente orden. Mientras partían dijeron:

– ¡Mañana veremos quien es quien!

– ¡Resolveremos quienes son los jactanciosos mañana!

– El momento ha llegado de ser merecedor de distinguirse de los indignos, ¡así que cualquier bandido no será capaz de presumir un corazón valiente!

– ¿Viste de lo que estamos hechos? – me preguntó orgullosamente el dueño.

– En efecto, lo he hecho, – respondí automáticamente, sintiendo que mi fuerza me había abandonado y que mi cabeza estaba zumbando con sensaciones extrañas.

Ese mismo día, leí en el periódico un artículo de fondo que decía lo siguiente:

– Ciudadanos, es hora de parar de enorgullecernos vanamente y fanfarronear entre nosotros; es tiempo de dejar de estimar palabras vacías las cuales usamos en abundancia para mostrar nuestras virtudes imaginarias y abandonos ¡El tiempo ha llegado, ciudadanos, de poner nuestras palabras a prueba y mostrar quién es realmente digno y quien no lo es! Pero creemos que no habrá vergonzosos cobardes entre nosotros que tengan que ser traídos a la fuerza al lugar acordado para el hierro. Cada uno de nosotros que siente en sus venas una gota de la noble sangre de nuestros ancestros luchará para estar entre los primeros en soportar el dolor y la angustia, orgullosa y calladamente, porque este es un dolor sagrado, es un sacrificio para el bien de nuestro país y por el dicha de todos nosotros. ¡Adelante ciudadanos que mañana es el día de la noble prueba…!

El dueño se fue a la cama inmediatamente luego de la reunión para ir lo más temprano posible al lugar designado al día siguiente. Sin embargo, muchos se fueron directamente al ayuntamiento para estar lo más cerca posible del comienzo de la fila.

Al día siguiente, también fui al ayuntamiento. Todo el mundo estaba ahí – jóvenes y ancianos, hombres y mujeres. Algunas madres trajeron a sus pequeños bebés en sus brazos para que pudieran ser marcados con el sello de la esclavitud, es decir de honor, y así obtener un mayor derecho a altas posiciones de servicio público.

Había empujones y maldiciones (en eso se parecen un poco a nosotros los serbios y de alguna manera me sentía complacido por eso), y todo el mundo aspiraba ser el primero en la puerta. Algunos incluso estaban agarrando a otros por la garganta.

Los sellos eran marcados por un empleado civil especial vestido en un traje formal blanco quien estaba reprochando moderadamente a las personas:

– No tararees, por el amor de Dios, todos tendrán su turno – no son animales, supongo que podemos manejárnosla sin tener que empujar.

Empezaron a marcar. Uno lloró, otro solo gruñó, pero nadie fue capaz de soportarlo sin hacer ni un sonido mientras estuve allí.

No pude soportar seguir viendo esta tortura, así que volví a la posada, pero algunos de ellos ya estaban ahí, comiendo y bebiendo.

– ¡Ya terminó! – dijo uno de ellos.

– Bueno, no gritamos en verdad, ¡pero Talb estaba rebuznando como un burro…! – dijo otro.

– ¿Ves como es Talb? Y querías tenerlo como presidente de la junta ayer.

– Oh, ¡nunca se sabe!

Hablaban, gruñendo del dolor y retorciéndose, pero tratando de esconderlo uno del otro, ambos estaban avergonzados de que pensarán que eran unos cobardes.

Kleard se deshonró a sí mismo, porque gimió y un hombre llamado Lear era un héroe porque pidió tener dos sellos marcados en su frente y nunca hizo un sonido de dolor. Todo el pueblo estaba hablando con el mayor de los respetos sólo sobre él.

Algunas personas se escaparon, pero fueron despreciados por todos.

Luego de unos días, aquel con los dos sellos en su frente caminaba con su cabeza bien alta. A donde fuera, susurros inspirados por el asombro lo seguían: ¡Lear, Lear!… ¡Ese es él!… ¡Ese es el héroe que no gritó, que no hizo un sonido mientras dos sellos eran estampados en su frente! Estaba en los titulares de los periódicos, alabado y glorificado.

Y se merecía todo el amor de la gente.

En todo el lugar escucha tales elogios y empecé a sentir la vieja y noble sangre serbia corriendo en mis venas, nuestros ancestros eran héroes, ellos murieron empalados en estacas por la libertad; nosotros también teníamos nuestro pasado histórico y nuestro Kosovo. Me emocioné con orgullo nacional y vanidad, entusiasmado de mostrar lo valiente que mi raza es y correr al ayuntamiento y gritar:

– ¿Por qué alaban a Lear? ¡Nunca han visto héroes reales! ¡Vengan y vean por ustedes mismo lo noble que es la sangre Serbia! ¡Marquen diez sellos en mi cabeza, no sólo dos!

El empleado público en el traje blanco trajo el hierro cerca de mi cabeza y empecé… Me desperté de mi sueño.

Me restregué la frente de miedo y me presigné, asombrado ante las extrañas cosas que aparecían en mis sueños.

– Casi eclipsé la gloria de su Lear – pensé, y satisfecho, me volteé y estaba de alguna manera apenado de que mi sueño no llegará hasta su fin.

 

En Belgrado, 1899.
Para el Proyecto “Radoje Domanović” traducido por Fabiola Rangel, 2019.

Razonamiento de un ordinario buey serbio

Tantas maravillas ocurren en este mundo y nuestro país está, como dicen muchos, rebosando de maravillas a tal extensión que las maravillas ya no son maravillas. Hay personas aquí en posiciones muy altas que no piensan en lo absoluto y como compensación, o quizás por otras razones, un ordinario buey campesino que no se diferencia ni un poco de otros bueyes serbios, empezó a pensar. Solo Dios sabe que hizo que este ingenioso animal se atreviera a tan atrevido intento, especialmente desde que se probó que en Serbia esta desafortunada labor solamente podía traer perjuicio. Entonces digamos que este pobre diablo, en toda su inocencia, ni siquiera sabía que todo este esfuerzo no era rentable en su patria, así que no le atribuiremos con ningún valor cívico en particular. Pero todavía sigue siendo un misterio porque un buey debería pensar ya que no es un votante, ni un concejero, ni un alcalde, ni ha sido elegido diputado en una asamblea bovina o incluso (si ha alcanzado cierta edad) un senador. Y si la pobre alma hubiera alguna vez soñado en convertirse en ministro del estado en cualquier país bovino, él hubiera sabido que, al contrario, él debería practicar como pensar lo menos posible, como aquellos excelentes ministros en algunos países más felices, aunque nuestro país tampoco es tan afortunado en este aspecto. Al final, ¿por qué nos debería importar por qué un buey serbio ha tomado tal tarea abandonada por las personas? También, quizás sucedió que él empezó a pensar simplemente por un instinto natural suyo.

Entonces, ¿qué tipo de buey es este? Un buey ordinario el cual tiene, como nos enseña la zoología, una cabeza, un cuerpo y extremidades como todos los otros bueyes; el jala una carreta, pasta en el pasto, lame sal, rumia y rebuzna. Su nombre es Sivonja, el buey gris.

He aquí como es qué empezó a pensar. Un día su amo lo enyugó a él y a su amigo, Galonja, cargó unos piquetes robados en la carreta y los llevó al pueblo para venderlos. Casi inmediatamente de haber entrado al pueblo, él vendió los piquetes y luego desenyugó a Sivonja y a su camarada, enganchó las cadenas que los ataban al yugo, tiró un manojo de plantas rodadoras en frente de ellos y entró en una pequeña taberna para refrescarse con unos cuantos tragos. Había un festival en curso en el pueblo, así que había hombres, mujeres y niños pasando por todas partes. Galonja, también conocido por otros bueyes por ser algo tonto, no estaba observando nada en particular; en cambio, se metió en su almuerzo con seriedad, comió hasta estar lleno, rebuznó un poco de puro gozo y luego se acostó, dormitó suavemente y rumiaba. Todas esas personas que pasaban no eran de su incumbencia. Él solo estaba dormitando y rumiando pacíficamente (es una lástima que no es un humano, con todas esas predisposiciones para tener un elevado cargo). Pero Sivonja no podía dar ni un solo mordisco. Sus ojos soñadores y su triste expresión en el rostro mostraban a primera vista que era un pensador y una alma dulce e impresionable. Las personas, serbios, pasan al lado de él, orgullosos de su glorioso pasado, su nombre, su nación y este orgullo se muestra en su severo comportamiento y paso. Sivonja observó todo esto y de repente su alma se consumió de tristeza y dolor debido a la tremenda injusticia y no pudo sino sucumbir a tan grande, repentina y poderosa emoción; él rebuznó triste y dolorosamente con lágrimas saliendo de sus ojos. En su inmenso dolor, Sivonja empezó a pensar:

– ¿De qué están mi amo y sus compatriotas tan orgullosos? ¿Por qué caminan con la cabeza tan en alto y miran a mi gente con un orgullo arrogante y desdén? Están orgullosos de su patria, orgullosos de que el destino misericordioso les concedió nacer aquí en Serbia. Mi madre también me dio a luz aquí en Serbia y Serbia no solo es mi tierra nativa pero también la de mi padre y todos mis ancestros han, justo como los de ellos, venido a estas tierras de la antigua patria eslava. Y aun así ninguno de nosotros los bueyes nos hemos sentido orgullosos de eso, solo sentimos orgullo de nuestra habilidad de jalar cargas pensadas cuesta arriba; hasta este día, nunca un buey le ha dicho a un buey alemán: Qué quieres de mí, soy un buey serbio, mi patria es el orgulloso país de Serbia, todos mis ancestros han sido paridos aquí y aquí, en esta tierra están las tumbas de mis antepasados.” Que dios nos salvé, nunca hemos sentido orgullo por eso, nunca ha pasado por nuestras cabezas y ellos incluso están orgullosos de eso. ¡Gente extraña!

Agobiado por estos pensamientos, el buey sacudió tristemente su cabeza, la campana de su cuello sonaba y su yugo crepitaba. Galonja abrió sus ojos, miró a su amigo y mugió:

– ¡Ahí vas de nuevo con esa payasada tuya! Come, tonto, gana un poco de grasa, mira tus costillas sobresaliendo; si fuera bueno pensar, las personas no nos lo hubieran dejado a nosotros los bueyes. ¡De ninguna manera habríamos sido tan afortunados!

Sivonja miró a su camarada con lástima, volteó su cabeza lejos de él y se volvió a sumergir en sus pensamientos.

– Ellos se enorgullecen de su glorioso pasado. Tienen su terreno de Kosovo, su batalla de Kosovo. Gran cosa, ¿mis ancestros no cargaron carretas con comida y armamentos incluso en aquelmomento? Si no fuera por nosotros, las personas lo habrían tenido que hacer ellos mismos. Luego está el levantamiento contra los turcos. Un gran y noble esfuerzo, pero ¿quién estaba en ese momento? ¿estaban estos zoquetes de nariz respingada luchando orgullosamente antes de que yo existiera como si tuvieran el mérito de ser los que empezaron el levantamiento? Ven, toma a mi dueño de ejemplo. Él es demasiado orgulloso y se jacta del levantamiento, especialmente por el hecho de que su tatarabuelo murió en la guerra de la liberación como un verdadero héroe. ¿Y es el mérito del dueño? Su tatarabuelo tenía el derecho de sentirse orgulloso, pero no él; su tatarabuelo murió para que mi dueño, su descendiente pudiera ser libre. Así que él es libre y ¿cómo usa su libertad? Roba los piquetes de otras personas, se sienta en la carreta y yo tengo que jalarlo tanto a él como a los piquetes mientras él está dormido en las riendas. Ahora que ha vendido sus piquetes, está bebiendo alcohol, sin hacer nada y sintiéndose orgulloso de su glorioso pasado. ¿Y cuántos de mis antepasados fueron masacrados en el levantamiento para alimentar a los guerreros? ¿Y en ese momento mis ancestros no jalaron los armamentos, cañones, comida y municiones? Y aun así nosotros no nos jactamos por sus méritos porque no hemos cambiado; todavía hacemos nuestros deberes, justo como hicieron nuestros ancestros, paciente y constantemente.

– Están orgullosos del sufrimiento de sus ancestros y de quinientos años de esclavitud. Mi clase la ha sufrido desde que existen y hoy en día todavía sufrimos y somos esclavizados y sin embargo no gritamos a más no poder sobre eso. Ellos dijeron que los turcos los torturaron, los masacraron y los empalaron; bueno mis ancestros fueron masacrados tanto por los serbios como por los turcos y asados y puestos bajo todo tipo de torturas.

– Están orgullosos de su religión y aun así no creen en nada. ¿Cuál es mi culpa y la de mi gente que no podemos ser aceptados entre cristianos? Su religión les dice “no robaras” y he ahí mi dueño robando y bebiendo con el dinero que obtuvo por robar. Su religión los instruye a amar a su vecino y aun así lo único que hacen es hacerse daño entre ellos. Para ellos, el mejor hombre, un ejemplo de virtud, es aquel que no causa daño alguno y por supuesto, nadie ni siquiera considera pedirle a alguien que también haga algo bueno, aparte de no causar daño. Así de bajos han llegado sus estándares de virtud que no van más allá que cualquier objeto inútil que no hace daño.

El buey suspiró profundamente y su suspiro elevó el polvo del camino.

– Entonces – el buey continuó con sus tristes pensamientos – en este caso, ¿no somos mi clase y yo mejores en todo eso que ellos? Nunca he matado a nadie, nunca he difamado a nadie, no he robado nada, no he despedido a un hombre inocente de servicio público, no he hecho un déficit en la tesorería del estado, no he fingido una falsa bancarrota, nunca he encadenado ni arrestado a personas inocentes, nunca he calumniado a mis amigos, nunca he ido contra mis principios de buey, no he hecho falsos testimonios, nunca he sido ministro de mi estado y nunca le he hecho ningún daño a mi país, y no solo no le he hecho ningún daño, incluso hago cosas buenas a esos que me hacen daño. Mi madre me dio a luz e inmediatamente, hombres malvados me quitaron la leche de mi madre. Al menos Dios ha creado el pasto para nosotros los bueyes y no para los hombres; aun así, ellos también nos lo quitaron. Todavía, además de todas las golpizas, jalamos las caretillas de los hombres, aramos sus campos y les damos de comer pan. Y aun así nadie admite nuestros méritos que hacemos por la patria…

– O toma el ayuno como un ejemplo; bueno, para los hombres, la religión les dice que hagan ayuno en todos los días festivos y aun así no están dispuestos a soportar este pequeño ayuno, mientras que mi gente y yo estamos haciendo ayuno toda nuestra vida, siempre desde que somos destetados del pecho de nuestra madre.

El buey bajó la cabeza como si estuviera preocupado, luego la levantó de nuevo, resopló enojado y parecía que algo importante volvió a su mente, atormentándolo; de repente, él mugió alegremente:

– Oh, ahora lo sé, tiene que ser eso – y continuó pensando – eso es lo que es; están orgullosos de su libertad y de sus derechos civiles. Tengo que pensar seriamente en eso.

Y él estaba pensando, pensando, pero no podía descifrarlo.

– ¿Cuáles son sus derechos? Si la policía les ordena votar, ellos votan y así podríamos fácilmente mugir: “¡A faa-aa-voo-or!” y si no los ordenan, no se atreven a votar o incluso incursionar en la política, igual que nosotros. Ellos también sufren golpizas en prisión, incluso si son completamente inocentes. Al menos nosotros rebuznamos y movemos nuestras colas y ellos ni siquiera tienen ese pequeño valor cívico.

En ese momento, su dueño salió de la taberna. Borracho, tambaleando, con los ojos borrosos, balbuceando palabras incomprensibles, serpenteando hacia la carretera.

– Solo mira, ¿cómo este es un orgulloso descendiente usando su libertad que ganaron con la sangre de sus ancestros? Cierto, mi amo es un borracho y un ladrón, pero ¿cómo los otros utilizan su libertad? Solo para holgazanear y enorgullecerse del pasado y tomar el mérito de sus ancestros, en la cual han contribuido como yo lo he hecho. Nosotros los bueyes, continuamos trabajando arduamente y siendo obreros útiles justo como nuestros ancestros lo fueron. Somos bueyes, pero todavía podemos estar orgullosos de nuestro arduo trabajo y méritos hoy en día.

El buey suspiró profundamente y preparó su cuello para el yugo.

 

En Belgrado, 1902.
Para el Proyecto “Radoje Domanović” traducido por Fabiola Rangel, 2019.

Pemimpin (3/3)

(halaman sebelumnya)

Hari pertama pun berlalu, dan hari-hari berikutnya mereka jalani dengan kesuksesan yang sama. Tidak ada hal penting yang terjadi, hanya kejadian sepele: mereka jatuh dengan kepala tersungkur ke dalam selokan, lalu ke dalam ngarai; mereka menembus pagar tanaman dan semak blackberry; mereka menginjak duri; beberapa lengan dan kaki patah; beberapa diantara mereka menderita luka di kepala. Tapi semua derita ini harus mereka tahan. Beberapa orang tua terbaring mati di jalanan.

“Mereka tetap akan mati bahkan jika mereka tetap tinggal di rumah, apalagi di jalanan!” kata juru bicara itu, dan menyemangati yang lain untuk melanjutkan. Beberapa anak yang lebih kecil, yang berumur satu hingga dua tahun puntewas. Para orang tua menekan sakit hati mereka karena itu adalah kehendak Tuhan.

“Dan semakin kecil anak-anak itu, semakin sedikit pula kesedihannya. Ketika mereka lebih muda, kesedihannya lebih sedikit. Tuhan menganugerahkan kepada orang tua untuk tidak pernah kehilangan anak mereka ketika telah mencapai usiapernikahan. Jika anak-anak memang ditakdirkan seperti itu, lebih baik mereka mati lebih awal. Jadi kesedihannya tidak begitu besar!” juru bicara itu menghibur mereka lagi. Beberapa orang membungkus kepala mereka dengan kain dan menempelkan kompres dingin pada memar mereka.

Yang lainnya membawa lengan mereka di dalam gendongan. Semuanya compang-camping dan terluka. Pakaian mereka tercabik-cabik, namun mereka memaksa maju dengan gembira. Semua penderitaan ini akan lebih mudah ditanggung jika mereka tidak disiksa dengan rasa lapar yang datang berkali-kali. Tapi mereka harus terus maju.

Pada suatu hari, sesuatu yang lebih berarti terjadi.

Sang pemimpinberjalan di depan, dikelilingi oleh pria-pria paling berani dalam kelompok itu. (Dua dari mereka hilang, dan tidak ada seorang pun yang tahu keberadaan mereka. Menurut banyak orang mereka telah mengkhianati perjuangan mereka dan melarikan diri. Pada suatu kesempatan sang juru bicara mengatakan sesuatu tentang pengkhianatan mereka yang memalukan. Hanya sedikit yang percaya bahwa keduanya meninggal di jalan, tetapi mereka tidak menyuarakan pendapat mereka agar tidak memunculkan perdebatan.)

Orang-orang lainnya berada di belakang mereka. Tiba-tiba muncul sebuah ngarai berbatu yang sangat besar dan luas–sebuah jurang yang sangat dalam. Lerengnya sangat curam sehingga mereka tidak berani melangkah maju. Bahkan pria-priayang paling berani pun berhenti sejenak dan menatap sang pemimpin.

Sambil mengerutkan dahi dan tenggelam dalam pikirannya dengan kepala menunduk, dia melangkah majudengan berani, mengetukkan tongkatnya di depan, pertama ke kanan, lalu ke kiri, dengan caranya yang khas. Banyak yang mengatakan bahwa itu semua membuatnya terlihat lebih bermartabat. Dia tidak memandang siapa pun atau mengatakan apa pun. Di wajahnya tidak ada perubahan ekspresi atau jejak ketakutan saat dia semakin mendekati jurang. Bahkan pria-pria yang paling berani pun menjadi pucat seperti mayat, tetapi tidak ada yang berani untuk memperingatkan sang pemimpin yang gagah berani dan bijaksana itu.

Dua langkah lagi dan dia sudah berada di tepi jurang. Dalam ketakutan yang tidak wajar dan dengan mata yang terbuka lebar, mereka semua gemetar. Pria-pria paling berani hampir menahan sang pemimpin itu, bahkan jika hal itu berarti pelanggaran disiplin, ketika dia melangkah sekali, dua kali, dan terjun ke jurang. Muncullah kebingungan, ratapan, dan jeritan; ketakutan menguasai mereka. Beberapa diantara mereka bahkan mulai melarikan diri.

– Tunggu, saudara-saudara! Mengapa terburu-buru? Apakah ini carakalian menepati janji? Kita harus mengikuti orang bijak ini karena dia tahu apa yang dia lakukan. Dia sudah gila jika menghancurkan dirinya sendiri. Maju, kejar dia! Ini adalah bahaya terbesar dan mungkin bahaya terakhir, rintangan terakhir. Siapa tahu? Mungkin di sisi lain jurang ini kita akan menemukan tanah yang subur dan menakjubkan yang Tuhan siapkan untuk kita. Lanjutkan! Tanpa pengorbanan, kita tidak akan pernah maju! – itulah nasihat dari sang juru bicara, dia juga mengambil dua langkah ke depan, dan menghilang ke dalam jurang. Pria-priayang paling berani mengikutinya, kemudian yang lainnya juga ikut terjun.

Ada ratapan, rintihan, erangan, dan raungan di lereng curam jurang yang luas ini. Tidak akan ada seorangpun yang bisa keluar hidup-hidup dari sini, apalagi tidak terluka dan masih dalam keadaan utuh, tetapi manusia adalah makhluk yang gigih. Sang pemimpinsangat beruntung. Dia tergantung di semak-semak saat dia jatuh dan tidak terluka. Dia berhasil merangkak dan memanjat keluar. Sedangkan ratapan, erangan dan tangisan bergema di bagian bawah, dia duduk tak bergerak, diam termenung. Beberapa orang yang babak belur dan marah mulai mengutuknya tetapi dia tidak mempedulikannya.

Mereka yang untungnya bisa memegang semak atau pohon saat jatuh mulai berusaha keras untuk memanjat keluar. Beberapa dengan kepala yang retak sehingga darah mengucur dari wajah mereka. Tidak ada seorang pun yang utuh kecuali sang pemimpin. Mereka semua tiba-tiba mengerutkan kening padanya dan mengerang kesakitan tetapi dia bahkan tidak mengangkat kepalanya. Dia diam dan melakukan pose reflektif layaknyaseorang bijak sejati!

Waktu pun berlalu. Jumlah pengelana menjadi semakin kecil dan semakin kecil. Setiap hari pasti ada korban. Beberapa diantaranya meninggalkan kelompokitu dan berbalik arah.

Dari jumlah yang banyak di awal, hanya tersisa sekitar dua puluh orang. Wajah mereka yang lesu dan lelah mencerminkan tanda-tanda keputusasaan, keraguan, kelelahan dan kelaparan, tetapi tidak ada yang mengatakan sepatah kata pun. Mereka diam seperti pemimpin mereka dan terus berjalan dengan susah payah. Bahkan sang juru bicara yang bersemangat itu menggelengkan kepalanya dengan putus asa. Jalan ini memang sulit.

Jumlah mereka berkurang setiap harinya hingga tersisa sepuluh orang. Dengan wajah yang sedih, mereka hanya mengerang dan mengeluh dan tidak berbicara.

Mereka lebih terlihat seperti orang lumpuh daripada manusia normal. Beberapa diantaranya menggunakan penopang tubuh. Beberapa orang menahan lengan mereka di dalam gendongan yang diikat di leher mereka. Di tangan mereka ada banyak perban dan kompres. Bahkan jika mereka ingin melakukan pengorbanan lainnya, mereka tidak bisa, karena hampir tidak ada ruang lagi di tubuh mereka untuk luka yang baru.

Bahkan, dia yang terkuat dan paling berani di antara mereka sudah kehilangan keyakinan dan harapan tetapi mereka masih berjuang lebih jauh; artinya, entah bagaimana, mereka tertatih-tatih seiring dengan kerasnya upaya, keluhan, dan tersiksa oleh rasa sakit. Apa lagi yang bisa mereka lakukan jika mereka tidak bisa kembali? Sudah begitu banyak pengorbanan yang mereka lakukan, apakah sekarang mereka harus meninggalkan perjalanan ini?

Senja pun turun. Dengan tertatih-tatih pada penopang tubuhnya, mereka tiba-tiba melihat bahwa sang pemimpin tidak lagi berada di depan mereka. Satu langkah kemudian mereka semua terjun ke jurang yang lain.

– Oh, kakiku! Oh, tanganku! – gemaratapan dan erangan. Sebuah suara yang lemah bahkan mengutuk sang pemimpin yang dihormatiitu namun kemudian menjadi senyap.

Ketika matahari terbit, sang pemimpinterduduk di sana, sama seperti pada hari ketika dia terpilih. Tidak ada sedikitpun perubahan dalam penampilannya.

Juru bicara itu keluar dari jurang, diikuti oleh dua orang lainnya. Cacat dan berdarah, mereka membalikkan badan untuk melihat ada berapa orang yang tersisa, namunhanya merekalah yang berada di sana. Ketakutan dan keputusasaan memenuhi hati mereka. Wilayah itu tidak mereka kenal, berbukit, berbatu – tidak ada jalan setapak di mana pun. Dua hari sebelumnya mereka menemukan sebuah jalan tetapi meninggalkannya. Sang pemimpin mengarahkan mereka seperti itu.

Mereka memikirkan teman-teman dan kerabat yang meninggal dalam perjalanan yang luar biasa ini. Kesedihan yang lebih kuat dari rasa sakit di anggota tubuh yang lumpuh menguasai mereka. Mereka telah menyaksikan kehancuran mereka dengan mata kepala mereka sendiri.

Juru bicara itu mendekati sang pemimpin dan mulai berbicara dengan suara lelah dan gemetar yang penuh dengan rasa sakit, keputusasaan dan kepahitan.

– Kita akanpergi ke mana sekarang?

Pemimpin itu diam.

– Kemana Andaakan membawa kami dan kami ada di mana sekarang? Kami menempatkan diri kami dan keluarga kami di tangan Anda dan kami mengikuti Anda, meninggalkan rumah kami dan kuburan leluhur kami dengan harapan bahwa kami dapat menyelamatkan diri dari kehancuran di tanah yang tandus itu. Tapi Anda telah menghancurkan kami dengan cara yang lebih buruk. Awalnya ada dua ratus keluarga di belakang Anda tapi sekarang, coba lihat ada berapa banyak yang tersisa!

– Maksudmu semua orang tidak ada di sini? – gumam sang pemimpin tanpa mengangkat kepalanya.

– Bisa-bisanya Anda menanyakan pertanyaan seperti itu? Angkat kepala Anda dan lihatlah! Hitung berapa banyak yang tersisa dalam perjalanan yang sial ini! Lihatlah bentuk kami sekarang! Lebih baik mati daripada menjadi lumpuh seperti ini.

– Aku tidak bisa melihatmu!

– Kenapa tidak?

– Aku buta.

Suasana tiba-tiba hening.

– Apakah Anda kehilangan penglihatan Anda selama perjalanan?

– Aku terlahir buta!

Ketiganya menundukkan kepala dalamkeputusasaan.

Angin musim gugur bertiup jahat melalui pegunungan dan merobohkan daun-daun yang layu. Kabut melayang di atas perbukitan, dan melalui kedinginan itu, udara yanglembab mengepakkan sayap-sayap gagak. Gaok gagak pertanda buruk bergema. Matahari tersembunyi di balik awan yang menggulung dan bergegas pergi menjauh.

Ketiga orang itu saling memandang dalamkengerian.

– Kita harus pergi kemana sekarang? – gumamsalah satu dari mereka dengan serius.

– Kami tidak tahu!

 

Di Beograd, 1901.
Untuk Proyek “Radoje Domanović” diterjemahkan oleh Verdia Juliansyah Cancerika, 2020.

Pemimpin (2/3)

(halaman berikutnya)

Keesokan harinya semua orang yang memiliki keberanian untuk melakukan perjalanan jauhberkumpul. Ada lebih dari dua ratus keluarga yang datang ke tempat yang sudah ditentukan. Hanya sedikit dari mereka yang tetap tinggal untuk menjaga rumah lama mereka.

Sungguh menyedihkan melihat kumpulan orang-orang yang menyedihkan dengan kemalangan yang pahit ini terpaksa meninggalkan tanah dimana mereka dilahirkan, yang di dalamnya terdapat kuburan dari nenek moyang mereka. Wajah mereka kuyu, lusuh dan terbakar sinar matahari. Penderitaan selama bertahun-tahun yang melelahkan ini menunjukkan efeknya kepada tubuh mereka dan menyajikan gambaran tentang penderitaan dan keputusasaan yang pahit. Tetapi pada saat itu, terlihat pula secercah harapan pertama –yang bercampur dengan kerinduan akan kepastian.

Air mata mengalir di wajah-wajah keriput dari banyak orang tua yang putus asa dan menggelengkan kepalanya dengan firasat yang buruk. Mereka lebih suka untuk tinggal selama beberapa waktu agar bisa mati di antara bebatuan ini ketimbang mencari tanah air yang lebih baik. Ada banyak wanita yang meratap dengan lantang dan mengucapkan selamat tinggal kepada kuburan dari orang yang mereka cintai dan akan mereka tinggalkan.

Pria itu memberanikan diri untuk maju dan berteriak, – Apakah kalian ingin terus kelaparan di negeri yang terkutuk ini dan tinggal di gubuk-gubuk ini? – Sebenarnya mereka semuamenginginkan yang terbaik dan membawa seluruh wilayah yang terkutuk ini bersama mereka jika mereka bisa.

Ada keributan dan teriakan yang biasa terjadi pada setiap kumpulan massa. Pria maupun wanita gelisah. Anak-anak menjerit di buaian punggung ibu mereka. Bahkan hewan ternak pun sedikit gelisah. Tidak ada banyak ternak di sana, seekor anak sapi di sana-sini dan punggungnya yang kurus dan berbulu lebat dengan kepala yang besar dan kaki yang gemuk, mengangkut permadani tua, tas, dan bahkan dua karung di atas pelananya, hewan malang itu sempoyongankarena beban itu.

Namun ia berhasil tetap berdiri dan meringkik dari waktu ke waktu. Yang lainnya sedang menyiapkan keledai; anak-anak menarik anjing dengan tali kekang. Pembicaraan, teriakan, kutukan, ratapan, tangisan, gonggongan, ringkikkan – semuanya bercampur. Bahkan seekor keledai meringkik beberapa kali. Tetapi sang pemimpin itu tidak mengucapkan sepatah kata pun, seolah-olah semua itu tidak menjadi urusannya. Benar-benar orang yang bijak!

Dia hanya duduk termenung dan terdiam, dengan kepala tertunduk. Sesekali dia meludah; itu saja. Tetapi karena perilakunya yang aneh, popularitasnya tumbuh sedemikian rupa sampai-sampaisetiap orang akan melalui api dan air, seperti yang mereka katakan, demi dirinya. Percakapan seperti ini dapat terdengar di sana:

– Kita seharusnya senang karena menemukan pria seperti itu. Seandainya kita berangkat tanpa dirinya, amit-amit! Kita pasti akan binasa. Dia memiliki kecerdasan sejati! Dia pendiam. Dia belum mengucapkan sepatah kata pun! – kata seseorang sambil melihat sang pemimpin dengan rasa hormat dan bangga.

– Apa yang harus dia katakan? Siapa pun yang banyak bicara, tidak akanbanyak berpikir. Pria yang cerdas, pastinya! Dia hanya merenung dan tidak mengatakan apa-apa, – tambah orang yang lain, dan memandang sang pemimpin itu dengan kagum.

– Tidak mudah untuk memimpin begitu banyak orang! Dia harus mengumpulkan pikirannya karena dia punya tugas yang besar di tangannya, – kata orang yang pertama lagi.

Waktu untuk memulai perjalanan pun tiba. Namun, mereka menunggu sebentar untuk melihat apakah ada orang lain yang akan berubah pikiran dan mengikuti mereka, tetapi karena tidak ada yang datang, mereka tidak dapat berlama-lama lagi.

– Apakah kita bisa berangkat sekarang? – tanyamereka kepada sang pemimpin.

Dia berdiri tanpa mengucapkan sepatah kata pun.

Pria-pria yang paling berani segera berkumpul di sekelilingnya untuk menjaganya jika terjadi bahaya atau keadaan darurat.

Sang pemimpin, mengerutkan kening, menundukkan kepalanya, mengambil beberapa langkah, lalu mengayunkan tongkatnya di depan dirinya dengan cara yang anggun. Kumpulan itu bergerak di belakangnya dan berteriak beberapa kali, “Hidup pemimpin kita!” Dia mengambil beberapa langkah lagi dan menabrak pagar di depan balai desa. Di sana, tentu saja, dia berhenti; jadi kelompok itu juga berhenti. Sang pemimpin kemudian mundur sedikit dan mengetukkan tongkatnya ke pagar beberapa kali.

– Anda ingin kami melakukan apa? – tanyamereka.

Dia tidak mengatakan apa-apa.

– Apa yang harus kita lakukan? Runtuhkan pagarnya! Itulah yang harus kita lakukan! Apa kalian tidakmelihat dia yang menunjukkan kepada kita dengan tongkatnya apa yang harus kita lakukan? – teriak mereka yang berdiri di sekeliling sang pemimpin.

– Itu gerbangnya! Itu gerbangnya! – teriak anak-anak sambil menunjuk ke arah gerbang yang berdiri di seberang mereka.

– Diam, tenang, anak-anak!

– Ya Tuhan, apa yang terjadi? – beberapa wanita membuat tanda salib.

– Tidak ada sepatah kata pun! Dia tahu apa yang harus dilakukan. Runtuhkan pagarnya!

Dalam sekejap pagar itu roboh seolah-olah tidak pernah ada di sana.

Mereka melewati pagar itu.

Belum sampaiseratus langkah mereka berjalan, sang pemimpin menabrak sebuah semak besar berduri dan berhenti. Dia berhasil menarik dirinya keluar dengan susah payah kemudian mulai mengetukkan tongkatnya ke segala arah. Tidak ada seorangpun yang bergeming.

– Lalu apa yang harus kita lakukan sekarang? – teriak orang-orang di belakang.

– Tebas semak berduri itu! – teriak orang-orang yang berdiri di sekeliling sang pemimpin.

– Jalannyaada di situ, di balik semak berduri itu! Itu dia! – teriak anak-anak dan orang-orang di belakang.

– Itu jalannya! Itu jalannya! – cemooh orang-orang di sekelilingsang pemimpin, menirukan dengan marah. – Bagaimana kita yang buta ini tahu kemana dia memimpin kita? Setiap orang tidak bolehsembarangan memberikan perintah. Sang pemimpin tahu rute yang terbaik dan paling cepat. Tebas semak berduri itu!

Mereka langsungmasuk ke dalam semak untuk membuka jalan.

– Aduh, – teriak seseorang yang tangannya tersangkut duri dan seseorang lainnya yang wajahnya terpukul oleh ranting buah blackberry.

– Saudara-saudara, kalian tidak bisa mendapatkan sesuatu tanpa pengorbanan. Kalian harus sedikit memaksakandiri untuk bisa berhasil, – jawab orang yang paling berani di kelompok itu.

Mereka berhasil menerobos semak setelah berusaha keras dan melanjutkan perjalanan.

Setelah berjalan sedikit lebih jauh, mereka menemukan sekumpulan batang kayu. Kumpulan ini pun dibuang ke samping. Kemudian mereka melanjutkan perjalanan.

Perjalanan mereka cukup pendek di hari pertama karena mereka harus mengatasi beberapa rintangan yang serupa. Dan mereka hanya memliki sedikit makanan karena beberapa diantara mereka hanya membawa roti kering dan sedikit keju, sementara yang lain hanya memiliki sedikit roti untuk memuaskan rasa lapar mereka. Beberapa yang lainbahkan tidak memiliki apa-apa. Untungnya saat itu adalah musim panas sehingga mereka dapat menemukan pohon buah-buahan di sana-sini.

Jadi, meskipundi hari pertama mereka hanya menemukan hamparan kecil di belakang mereka, mereka merasa sangat lelah. Tidak ada bahaya besar dan musibah yang muncul. Tentu saja dalam usaha yang besar seperti itu kejadian-kejadian seperti ini akan dianggap sepele: duri yang menusuk mata kiri seorang wanita, yang dia tutupi dengan kain yang lembab; seorang anak yang menangis dan tersandung sebatang kayu; seorang lelaki tua yang terjerembab ke semak blackberry dan pergelangan kakinya terkilir; setelah bawang bombay diletakkan di atas kakinya, pria itu menahan rasa sakit dengan berani, lalu bersandar pada tongkatnya, berjalan tertatih-tatih tanpa takut, di belakang sang pemimpin.

(Namun, beberapa orang mengatakan bahwa lelaki tua itu berbohong tentang pergelangan kakinya, dia hanya berpura-pura karena dia ingin kembali ke rumah. )Tak lama kemudian, hanya ada beberapa orang saja yang tidak tertusuk duri di lengan mereka atau tidak terluka di wajahnya. Para pria menanggung semuanya dengan gagah berani sementara para wanita mengucapkan sumpah serapah sepanjang waktu dari saat mereka melangkah pergi dan anak-anak menangis, wajar saja, karena mereka tidak memahami semua kerja keras ini dan rasa sakit untuk mendapatkan imbalan yang berlimpah.

Namun semua orang bahagiadan gembira, karena tidak ada sesuatu yang terjadi kepada sang pemimpin. Sejujurnya, jika kita ingin mengatakan yang sebenarnya, dia memang sangat terlindungi, tetapi tetap saja, pria itu cukup beruntung. Pada malam pertama di perkemahan, semua orang berdoa dan bersyukur kepada Tuhan karena perjalanan hari itu berhasil dan tidak ada, bahkan tidak sedikit pun kemalangan, yang menimpa sang pemimpin. Kemudian salah satu pria yang paling berani mulai berbicara. Wajahnya telah tergores semak blackberry, tapi dia sama sekali tidak mengindahkannya.

– Saudara – saudara, – mulainya. – Perjalanan satu hari ini terbentang dengan sukses di belakang kita, terima kasih Tuhan. Perjalanan ini memang tidak mudah, tetapi kita harus bertahan karena kita semua tahu bahwa jalan yang sulit ini akan membawa kita menuju kebahagiaan. Semoga Tuhan Yang Mahakuasa melindungi pemimpin kita dari bahaya apa pun agar dia dapat terus memimpin kita dengan berhasil.

– Besok akuakan kehilangan mataku yang lain jika keadaannya seperti hari ini! – katasalah satu wanita dengan marah.

– Aduh, kakiku! – teriak lelaki tua itu, menyahuti ucapan wanita itu.

Anak-anak terus merengek dan menangis, dan para ibu kesulitan untuk mendiamkan mereka agar juru bicara itu dapat terdengar.

– Ya, Anda akan kehilangan mata Anda yang lain, – dalam ledakan kemarahannya, – dan semoga Anda kehilangan keduanya! Bukanlah suatu kesialan yang besar bagi seorang wanita untuk kehilangan matanya untuk tujuan yang sangat besar. Memalukan! Pernahkah Anda memikirkan tentang kesejahteraan anak-anak Anda? Biarlah separuh dari kita binasa dalam upaya ini! Apa bedanya? Untuk apa satu mata? Apa gunanya mata Anda saat ada seseorang yang menjaga kita dan membawa kita menuju kebahagiaan? Haruskah kita meninggalkan usaha ini hanya karena mata Anda dan kaki orang tua itu?

– Dia bohong! Orang tua itu berbohong! Dia hanya berpura-pura agar dia bisa pulang, – teriak suara-suarayang bergema di semua penjuru.

– Saudara-saudara, siapa pun yang tidak ingin melanjutkan lebih jauh, – kata juru bicara itu lagi, – biarkan saja dia kembali, daripada mengeluh dan menyusahkan kita semua. Sejauh yang saya tahu, saya akan mengikuti pemimpin yang bijaksana ini selama masih ada yang tersisa dalam diri saya!

– Kami semua akan mengikutinya! Kami semua akan mengikutinya selama kamimasih hidup!

Sang pemimpin diam.

Semua orang mulai menatapnya dan berbisik:

– Dia tenggelam dalam pikirannya!

– Orang yang bijak!

– Lihat dahinya!

– Dan selalu mengerutkan dahi!

– Serius!

– Dia berani! Itu terlihat dalam dirinya.

– Kamu benar! Pagar, batang kayu, mawar liar – dia menebas semuanya. Dia mengetukkan tongkatnyadengan pelan, tidak mengatakan apa-apa, dan kita harus menebak apa yang ada di dalam pikirannya.

(halaman sebelumnya)